Ajker Patrika

বর্জ্য সংরক্ষণাগারে মিলছে ময়মনসিংহ মেডিকেলের চিকিৎসাসামগ্রী, সমালোচনা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৫৯
বর্জ্য সংরক্ষণাগারে মিলছে ময়মনসিংহ মেডিকেলের চিকিৎসাসামগ্রী, সমালোচনা
বর্জ্য সংরক্ষণাগারে বস্তা থেকে চিকিৎসাসামগ্রী বাছাই করছেন এক শ্রমিক। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে নগরের শম্ভুগঞ্জের একটি বর্জ্য সংরক্ষণাগারে। ২০২৮ ও ২০৩১ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে বর্জ্যের সঙ্গে বাইরে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান মমেক হাসপাতাল। প্রতিদিন হাজারো রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যেই হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী বর্জ্য সংরক্ষণাগারে পাওয়ার ঘটনায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্জ্য সংরক্ষণাগারে কয়েক বস্তা সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া গেছে। এগুলোর মেয়াদ শেষ হতে এখনো কয়েক বছর রয়েছে। বর্জ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের দাবি, এসব সামগ্রী আলাদা করে রাখা হয় এবং পরে কিছু সামগ্রী হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয়। অবশিষ্ট সামগ্রী পাইকারি দরে বিক্রি করা হয় বলে জানান তাঁরা।

বর্জ্য সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিক জুবেদা খাতুন বলেন, এ কাজে ১১ জন শ্রমিক নিয়োজিত। তাঁদের মধ্যে চারজন মমেক হাসপাতাল থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করেন। অন্য সাতজন বর্জ্য সংরক্ষণাগারে সেগুলো বাছাই করেন।

জুবেদা খাতুন আরও বলেন, প্রতিদিন বর্জ্যের সঙ্গে নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন আসে। এগুলো আলাদা বস্তায় রাখা হয়। ১০ থেকে ১২ দিন পর তিন থেকে চার বস্তা জমলে সেগুলো হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হয়। অবশিষ্ট সামগ্রী পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়।

হাসপাতালের অব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী কীভাবে বর্জ্য সংরক্ষণাগারে যাচ্ছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়ক ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, এসব সামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের দায় ও তদারকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে ঠিকাদার আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর কর্মকর্তা ঝন্টু সরকার বলেন, অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ চিকিৎসাসামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝন্টু আরও বলেন, এসব সামগ্রী হাসপাতালের বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে সেগুলো কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ছুটি শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে জবাবদিহি চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন মমেক হাসপাতাল থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যানগাড়ি বর্জ্য সরানো হয়। এসব বর্জ্য থেকে প্রতি সপ্তাহে তিন থেকে কয়েক বস্তা অব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, স্যালাইনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত