Ajker Patrika

মৌলভীবাজারে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট
রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে মেনে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের ৪টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার পরিবারের মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। রাজনগর ও সদর উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও খাবার বা সহযোগিতা এখনো মেলেনি। হাতেগোনা কিছু মানুষ খাবার পেলেও বেশির ভাগ বন্যার্তরা এখনো ত্রাণ পাননি।

রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা
রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

এ ছাড়া জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ও রহিমপুর এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা, কামারচাক ও পাঁচগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে অনেক বাড়িঘর ও আঙিনায় এখনো পানি রয়েছে। বেশির ভাগ দুর্গত এলাকায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে ত্রাণ পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৫টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী, ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ পকেট শুকনো খাবার, ৯০ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা
রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুর রহমান, হাওয়া বেগম ও সইফুল মিয়া বলেন, ‘৩ দিন ধরে আমরা পানিবন্দী। অনেকের ঘরে হাঁটুসমান পানি। এখনো সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো খাবার পাইনি। যাদের ঘরে পানি উঠেছে তারা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কেউ তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।’

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার নদ-নদীর পানি গতকাল রাত থেকে কমতে শুরু করেছে। আশা করি পানি দ্রুত নেমে যাবে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ইতিমধ্যে শুকনো খাবার, চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদের সহায়তা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত