Ajker Patrika

‘বিএনপির ৩১ দফার কোথায় লেখা ছিল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করতে হবে’

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
‘বিএনপির ৩১ দফার কোথায় লেখা ছিল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করতে হবে’
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাংনী বাজার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় এনসিপির নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ ও পথসভায় বিএনপির সমালোচনা করে দলটির ৩১ দফা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি একদিকে ৩১ দফা বাস্তবায়নের কথা বলছে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের রাজনীতি করছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাংনী বাজার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা দেশের নির্বাচনব্যবস্থা, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়েও বক্তব্য দেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাকিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসচিব আক্তার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

সভায় আক্তার হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচন দিতে চাইত না। নির্বাচনের নামে ডামি নির্বাচন করত এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করত।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারের ছয় মাস পার হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সেই তারিখ এখনো জানানো হয়নি। ভোট ছাড়া স্থানীয় সরকারে প্রতিনিধি বসানো হচ্ছে। ইউনিয়ন ও জেলা পরিষদে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক পদে বসানো হচ্ছে। শিক্ষা, ব্যবসা ও সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করা হচ্ছে।’

বিএনপির ৩১ দফার প্রসঙ্গ তুলে আক্তার হোসেন বলেন, ‘বিএনপি কথায় কথায় ৩১ দফা বাস্তবায়নের কথা বলে। কিন্তু বিএনপির সেই ৩১ দফায় কোথায় লেখা ছিল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করতে হবে?’

সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্বের বড় রাজনৈতিক দল দাবি করা একটি গ্রুপকে টেলিগ্রাম লীগে পরিণত করা হয়েছে। ট্যাংক, গোলাবারুদ, পার্শ্ববর্তী দেশ, বিদেশি শক্তি, টাকাপয়সা ও অর্থবিত্ত—কোনো কিছুই ওই দলের পতন ঠেকাতে পারেনি।’

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, ‘যাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করেছেন, তাদের কুশপুত্তলিকা তৈরি করছেন। আওয়ামী লীগ থেকে শিক্ষা না নিলে গাংনীর মানুষও জবাব দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ নেই। দেশকে যদি আওয়ামী লীগের পথে নিয়ে যেতে চান, তাহলে জনগণের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।’

মাহমুদা মিতু বলেন, ‘একটি বালুর ট্রাক সরাতে পারেননি, আর এখন চোরাগোপ্তা হামলার চেষ্টা করছেন। এনসিপি জুলাইয়ের ’২৪-এর আন্দোলনের রক্তের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। এনসিপির গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কীভাবে প্রতিরোধ করতে হয়, তা জনগণ জানে।’

এ সময় তিনি গণভোটের রায়ের সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত