Ajker Patrika

মাগুরার মাটিতে ফলেছে বিদেশি ফল ‘আলুবোখারা’

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি 
মাগুরার মাটিতে ফলেছে বিদেশি ফল ‘আলুবোখারা’
মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের গাছে ঝুলছে পরিপক্ব ‘আলুবোখারা’। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রে উচ্চমূল্যের ফল ‘আলুবোখারা’র সফল চাষ হয়েছে। কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করা ‘বারি আলুবোখারা-১’ জাতের ১৫টি চারায় ২০২২ সাল থেকে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে কেন্দ্রের ১৫টি গাছই ফলে ভরপুর।

গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) দেশীয় আবহাওয়ার উপযোগী করে ‘বারি আলুবোখারা-১’ জাতটি অবমুক্ত করে। পরে ২০১৯ সালে মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র চত্বরে পরীক্ষামূলকভাবে ১৫টি চারা রোপণ করা হয়।

কর্তৃপক্ষের নিবিড় পরিচর্যায় ২০২২ সাল থেকে গাছগুলোতে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে সবগুলো গাছেই ফল ধরেছে।

সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে গাছে ফুল আসে। জুন মাসে ফল পুরোপুরি পরিপক্ব হয়। কাঁচা অবস্থায় ফলের রং গাঢ় সবুজ থাকে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা উজ্জ্বল খয়েরি রং ধারণ করে। পরে লাল রং হয়ে যায়। পুরোপুরি পেকে গেলে ফল কুচকুচে কালো বা গাঢ় বেগুনি রং নেয়, যা দেখতে অনেকটা কালো জামের মতো এবং নরম ও রসালো।

গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যমতে, একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত আলুবোখারা পাওয়া সম্ভব। প্রতিটি ফলের ওজন সাধারণত ১০ থেকে ১২ গ্রাম। এর প্রায় ৯০ শতাংশই ভক্ষ্য অংশ। ফলের ভেতরের আঁটি খুবই ছোট।

এই ফল মসলা হিসেবে যেমন পোলাও বা বিরিয়ানিতে ব্যবহৃত হয়, তেমনি এটা দিয়ে চাটনি, আচার এবং একধরনের সন্দেশও তৈরি করা যায়।

মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘পারিবারিক পুষ্টির অভাব পূরণ এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে আলুবোখারার এই নতুন জাতটি অত্যন্ত চমৎকার ও আশাব্যঞ্জক। আমরা ইতিমধ্যে এই কেন্দ্রের নিজস্ব উদ্যোগে কিছু উন্নত ও মানসম্মত চারা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত