Ajker Patrika

মাদারীপুরে সড়কের পাশে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে সড়কের পাশে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ
মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর এলাকায় মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার সব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ময়লার ভাগাড়ের পাশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছেন লোকজন। নোংরা আবর্জনার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বাড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি। দেড় শ বছরের পুরোনো এই পৌরসভায় আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় এই ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি মৌজায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। পৌরসভার ময়লা অপসারণের জন্য ১১১ জন পরিছন্নতাকর্মী, ৩০ জন ভ্যান ও ট্রাকচালক আছেন।

প্রতিদিন ভোর হলেই মাদারীপুর শহরের বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ভ্যানগাড়িতে করে মহিষেরচর এলাকায় আনা হয়। এরপর মাদারীপুর-শরিয়তপুর সড়কের পাশে এসব ময়লা ফেলা হয়। রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার জায়গার পেছনে রয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাদারীপুর বিসিক শিল্পনগরী। ময়লার ভাগাড়ের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসহ পুরো এলাকাটিই দুর্গন্ধময় হয়ে পড়েছে। সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন শরীয়তপুর, চাঁদপুর, খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ নানা জেলায় যাতায়াত করে। দুর্গন্ধের কারণে এই সড়কে যাত্রী ও পথচারীরা নাক-মুখ চেপে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া বৃষ্টি হলে ময়লা-আবর্জনাগুলো ভেসে রাস্তায় চলে আসে। এ সময় রাস্তায় চলাচলের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এসব ময়লা-আবর্জনা অপসারণের ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

পথচারী নোমান হাসান বলেন, ‘আড়িয়াল খাঁ সেতুর পাশেই আমার বাড়ি। প্রতিদিন মাদারীপুর শহরের এই পথ দিয়েই যেতে হয়। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে রাস্তায় হাঁটাচলা করাই কঠিন। নাক চেপে ধরে চলতে হয়। অনেক সময় বমিও এসে যায়। দ্রুত এই সড়কের পাশ থেকে ময়লা অপসারণের দাবি জানাই।’

ইজিবাইকচালক নাইম হোসেন বলেন, রাস্তার পাশে এভাবে ময়লা ফেলা ঠিক না। এতে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। তা ছাড়া পরিবেশও অনেক দূষিত হয়। ইজিবাইক নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলতে গেলে দুর্গন্ধে বমি এসে যায়।

মাদারীপুরের ইতিহাস গবেষক সুবল বিশ্বাস বলেন, ‘দীর্ঘদিনেও মাদারীপুরে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি, এটা খুবই দুঃখজনক। পৌরসভার সাধারণ এই মানুষগুলো কেন এই ভোগান্তিতে থাকবে। ডাম্পিং স্টেশন আরও অনেক আগেই করা উচিত ছিল, সেখানে এই ডিজিটাল যুগে এসেও মানুষ কেন ময়লা নিয়ে ভোগান্তিতে থাকবে?’

মাদারীপুর পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচারের প্রতিষ্ঠাতা রাজন মাহমুদ বলেন, মানুষ ও পরিবেশের কথা চিন্তা করে পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করা।

মাদারীপুরের সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল কর্মকর্তা মোহাম্মদ খলিলুজ্জামান সরদার বলেন, খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলার ফলে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তা ছাড়া পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। এসবের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, পেটে সমস্যা, চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই কোনোভাবেই খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা ঠিক নয়।

মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ‘এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমাতে আধুনিক সিস্টেমে ময়লা ফেলার জন্য নেওয়া প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এখন টাকা এলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। আশা করছি, আগামী অর্থবছরেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। আর এতে পৌরবাসীর ভোগান্তি কমবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত