Ajker Patrika

মাদারীপুর: দেড় বছর থমকে ৮ কোটির সেতু নির্মাণ

  • কুমার নদের ওপর ৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
  • সরকার পতনের পর সেতুটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন পালিয়ে যায়।
মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুর: দেড় বছর থমকে ৮ কোটির সেতু নির্মাণ
মাদারীপুর সদরের চরমুগরিয়ায় কুমার নদের ওপর নির্মাণাধীন সেতু। ডিঙিতে পার হচ্ছে স্থানীয়রা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাদারীপুরে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থমকে আছে একটি সেতুর নির্মাণকাজ। এ দিকে কাজটির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার পর আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। সদর উপজেলার চরমুগরিয়া এলাকায় কুমার নদের ওপর ৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেতুটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন পালিয়ে যায়। ফলে এর পর থেকে নির্মাণকাজে তেমন একটা অগ্রগতি নেই।

এ দিকে জীবনের ঝুঁকি ও ভোগান্তি নিয়ে ডিঙিতে কুমার নদ পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের। নৌকায় পারাপর হতে গিয়ে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকছে তাদের। জরুরি অবস্থায় রোগী পারাপারে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা।

সেতু না থাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। এতে খরচ বাড়ছে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। তাই তাঁরা দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট মাদারীপুরের চরমুগরিয়া এলাকার কুমার নদের ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। কাজটি শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টিএস রোড এলাকার হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত কাজটির মেয়াদ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। এ দিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ায়। সেই হিসাব মতে, চলতি বছরের জুন মাসে কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেতুটি নির্মাণকাজের তেমন একটা অগ্রগতি দেখা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়া এলাকার সঙ্গে শিরখাড়া, দুখখালী, বাহাদুরপুর ও পেয়ারপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি যাতায়াত করতে পারবেন। এতে সড়ক পথের দূরত্ব কমবে প্রায় দেড় কিলোমিটার।

সামিয়া আক্তার নামের স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘ব্রিজটি নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ বেশি যাতায়াত করতে হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া বলেন, ‘চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদার পলাতক আছে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা চলছে। তাই আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত