পাটগ্রাম শহর: অটোর দাপট, যানজটে ভোগান্তি
• হাটবারে শহর ও বাজার এলাকায় অটোরিকশার চাপ বাড়ে। ফলে যানজট তীব্র হয়
• যত্রতত্র অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়। এতে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়
• রাস্তার জায়গা দখল করে বসছে অস্থায়ী দোকানপাট

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম শহরের মূল সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অটোরিকশা। সেই সঙ্গে রয়েছে হকারদের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানোর প্রতিযোগিতা। এসব কারণে সড়কে তীব্র যানজট লেগেই থাকছে। কখনো কখনো হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধান সড়কসহ প্রায় সব সড়কে শত শত ব্যাটারিচালিত ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছে। ট্রাফিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র রিকশা থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো চলছে। শহরের পূর্ব চাররাস্তার মোড় (চৌরঙ্গী) থেকে পশ্চিম চাররাস্তার মোড় পর্যন্ত এলাকায় ভাসমান দোকানপাট আর যানজট সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া তেঁতুলতলা থেকে পৌরসভা সড়ক, পশ্চিম চৌরঙ্গী মোড় থেকে বাইপাস মোড় সড়ক, রেলগেট, রেলস্টেশন, পুরাতন কাঁচাবাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এবং ভূমি অফিসের পশ্চিমে থানা রোড সড়কগুলোয় অটোরিকশার দাপট অনেক বেশি। আবার সড়কগুলোর দুই পাশে পাঁচ থেকে সাত ফুট জায়গা দখল করে সারি সারি অস্থায়ী দোকানপাট বসছে। সড়কে ফল, জুতা-স্যান্ডেল, পেঁয়াজ-রসুন, কাপড়চোপড়, হাঁস-মুরগি, পান-সুপারি, কাঠ ও লোহার আসবাবের পসরা নিয়ে বসছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
এসব অস্থায়ী দোকানের সামনে ক্রেতারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছে। একদিকে অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা, অন্যদিকে হকার-ক্রেতার ভিড়ে সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবীসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটবার রোববার ও বৃহস্পতিবার উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন থেকে হাজারো মানুষ শহরে আসে। এতে শহর ও বাজার এলাকায় মানুষ এবং যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। ফলে যানজট আরও তীব্র হয়।
সড়কে একাধিক হকার বলেন, স্থায়ী দোকানের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা অগ্রিম দেওয়ার সামর্থ্য তাঁদের নেই। বাধ্য হয়ে স্থায়ী দোকানমালিককে দুই থেকে তিন লাখ টাকা দেওয়ার বিনিময়ে তাঁর দোকানের সামনে সড়ক ও ফুটপাতে মাত্র ১০-১২ ফুট জায়গায় অস্থায়ী দোকান বসান তাঁরা। অন্যের দোকানের সামনে অস্থায়ী দোকান বসালেও প্রতি মাসে ১ থেকে ৩ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়। হকাররা বলেন, তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করলে পরিবার নিয়ে নিদারুণ কষ্টে পড়বেন।
পাটগ্রাম পৌরসভার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ফুটপাত তো দখল হয়েছেই। রাস্তায় এত বেশি অটোরিকশা যে চলাচল করার উপায় নাই। আমরা খুব সমস্যায় আছি। কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘শহরের সড়ক দিয়ে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসা করে। বেপরোয়া অটোরিকশা ও যানজটের কারণে সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থীদের হেঁটে চলাচল করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এত বেশি রিকশা দেশের আর কোথাও আছে কি না সন্দেহ! ফুটপাতগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করা দরকার।’
যানজট নিরসন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তারপরও অটোরিকশার লাগাম টানা যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার চালিয়ে অটোরিকশাগুলোকে নির্দিষ্ট জায়গা (স্ট্যান্ড) থেকে যাত্রী পরিবহনের নির্দেশ দেওয়া হলেও চালকেরা তা মানছেন না। যানজট নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি বা টেকসই কোনো উদ্যোগ দরকার বলে মনে করছে শহরবাসী।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার বলেন, ‘এই শহরের ফুটপাত দখল ও যানজট দীর্ঘদিনের একটি সংকট। জনসাধারণের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এটি সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’









