Ajker Patrika

বিসিএস প্রস্তুতির আট পরামর্শ

এম এ মান্নান
বিসিএস প্রস্তুতির আট পরামর্শ
এম এ মান্নান।

দেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষাগুলোর একটি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)। তিন ধাপের এই পরীক্ষায় সফল হতে প্রয়োজন পরিকল্পিত প্রস্তুতি, নিয়মিত অধ্যয়ন ও সঠিক কৌশল। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে আট পরামর্শ দিয়েছেন ৩৬তম বিসিএস (কৃষি) ক্যাডারের কর্মকর্তা কৃষিবিদ এম এ মান্নান।

১. প্রতিযোগিতামূলক যেকোনো পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আপনার প্রথম কাজ হলো আপনি যে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেবেন, সেই পরীক্ষায় কয়টি ধাপ আছে।

কোন কোন বিষয় থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন থাকে, সেটি জানা এবং সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া। বিসিএসের ক্ষেত্রে প্রিলিমিনারিতে কয়টি বিষয় আছে, কোন বিষয় থেকে কত নম্বরের প্রশ্ন থাকবে, সেটি আপনাকে জানতে হবে।

২. তারপর আপনি ১০টি বিষয়ের জন্য আবার আলাদা আলাদা পৃষ্ঠায় ওই বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য লিখে টেবিলের সামনে রাখতে পারেন; যেমন বিসিএস প্রিলিমিনারিতে গণিতে নম্বর আছে ১৫। গণিতকে আবার ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। পাটিগণিতে ৩ নম্বর, বীজগণিতে ৬ নম্বর, জ্যামিতিতে ৬ নম্বর। এটি লিখে আপনার লাভ হলো আপনি জানতে পারলেন, গণিতে ১৫ নম্বরের মধ্যে কোন অংশ থেকে কত নম্বর থাকে। আরও জানলেন পাটিগণিত থেকে কম নম্বর থাকবে। আবার পাটিগণিতে ৩ নম্বরের জন্য ৬টি অধ্যায় অনুশীলন করতে হবে, সেটিও আপনি জানবেন। এভাবে সব বিষয়ে সাজেশন করে পড়ুন।

৩. ১০টি বিষয়ের সিলেবাস ২ থেকে ৩ বার করে রিডিং পড়ুন।

৪. রুটিন করে পড়াশোনা করা। আমার পরামর্শ হলো প্রতিদিন রুটিন না করে আপনি মাসব্যাপী রুটিন করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ আপনার লক্ষ্য তিন মাসে বিসিএস প্রিলিমিনারির ১০টি বিষয়ে একবার করে রিডিং পড়ে শেষ করবেন। তাহলে প্রথম এক মাস আপনি প্রতিটি বইয়ের ৩৩ শতাংশ পড়া শেষ করার টার্গেট রাখবেন।

৫. সিলেবাসভিত্তিক পড়াশোনা করতে হবে, যেমন পাটিগণিতে ৩ নম্বরের জন্য আপনাকে ছয়টি অধ্যায় অনুশীলন করতে হবে। যে শিক্ষার্থী গণিতে দুর্বল, তিনি তো ছয়টি অধ্যায় অনুশীলন করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে সেই শিক্ষার্থী ৩৫ থেকে ৪৬তম বিসিএসের প্রশ্ন দেখে জানবেন, পাটিগণিতে ছয়টির মধ্যে কোন তিনটি অধ্যায় থেকে প্রায় প্রতিবছর প্রশ্ন আসে। তিনি প্রথমবার গণিত করার সময় ওই তিনটি অধ্যায় অনুশীলন করে পাটিগণিত শেষ করবেন। দ্বিতীয়বার যখন করতে যাবেন, তখন তিনি আরও একটি অধ্যায় বাড়িয়ে এবার চারটি অধ্যায় অনুশীলন করবেন।

৬. যে টপিক পড়া শুরু করবেন, সেটি শেষ না করে অন্য টপিকে যাবেন না। যখন শতকরা শুরু করবেন, তখন সেটি শেষ না করে অন্য কোনো বিষয় পড়তে যাবেন না।

৭. সব বই একবার করে পড়ার পর আপনি বিগত বছরের প্রশ্ন ও এর সমাধান পড়া শুরু করবেন।

৮. বিগত বছরের বিসিএস এবং অন্য নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন মুখস্থ করবেন। বাকি পড়াগুলো একবার করে রিডিং পড়ুন। সিলেবাসে নেই এবং যে টপিক থেকে বিগত বছরে প্রশ্ন আসেনি, সেটা বাদ দেবেন। সব পড়া শেষ করে হাতে সময় থাকলে একবার রিডিং পড়বেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত