কমলনগরে অপচিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে লাইফ লাইন নামের একটি হাসপাতালে অপচিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় প্রসূতি শাহনাজ বেগমের (২০) অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে পরিবার। নবজাতকের বাবা মো. আরিফ হোসেন জেলা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন বাহারুল আলমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আরিফ হোসেন। অভিযোগের অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
আরিফ হোসেন কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আজাদের ছেলে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ১৩ অক্টোবর রাতে প্রসববেদনা উঠলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে করইতলা বাজার এলাকার লাইফ লাইন হাসপাতালে নিয়ে যান আরিফ। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসা সহকারী সুমাইয়া ইসলাম সুমনা আলট্রাসনোগ্রাফি করে স্বাভাবিক প্রসবের আশ্বাস দিয়ে শাহনাজকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও প্রসবের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্বজনেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সুমাইয়া ইসলাম তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সময় পর ঝুঁকির বিষয়টি বুঝতে পেরে শাহনাজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি চান স্বজনেরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র না দিয়ে রোগীকে আটকে রেখে একের পর এক ইনজেকশন দেন। একপর্যায়ে গর্ভেই নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে অ্যানেসথেসিয়া ছাড়াই দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের অভিযোগ, সুমাইয়া ইসলাম সুমনা এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক নন; তিনি ডিএমএফ সনদধারী। হাসপাতালটিতে এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই কার্যক্রম চলছে এবং সুমাইয়া ইসলামের অন্তঃসত্ত্বা মায়ের চিকিৎসা বা আলট্রাসনোগ্রাফি করার বৈধ অনুমোদন নেই বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। হাসপাতালটিতে এর আগেও একাধিক নবজাতকের মৃত্যু ও প্রসূতিদের শারীরিক জটিলতার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নবজাতকের বাবা আরিফ হোসেন বলেন, ‘বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আমাদের রোগীকে জেলা বা ঢাকা নিতে দেওয়া হয়নি। উল্টো আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং রোগীকে একের পর এক ইনজেকশন পুশ করেছে।’
আরিফ হোসেন আরও বলেন, ‘অবশ না করেই তড়িঘড়ি করে ছোট সিজার ও সেলাই করায় এখন আমার স্ত্রীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সে এখন লক্ষ্মীপুরের একটি হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং সেলাইও ঠিকমতো করা হয়নি।’
লাইফ লাইন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তবে কিছু লোক আমাকে সাময়িক হয়রানি করার মিশন নিয়ে এসব করছে।’
সিভিল সার্জন বাহারুল আলম বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালট্যান্ট মনোয়ার হোসেনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।










