Ajker Patrika

ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা: অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এক বছরেও

  • তিন দফায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন
  • অমীমাংসিত একাধিক প্রশ্ন
  • বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সিআইডি—কারও কাছেই নতুন কোনো তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ বাদীর
ইবি প্রতিনিধি 
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৩০
ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা: অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এক বছরেও
নিহত ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও উন্মোচিত হয়নি রহস্য। তদন্ত কর্মকর্তা বারবার পরিবর্তন করা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়নি। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও নানা কর্মসূচি পালিত হলেও কার্যকর ভূমিকা দেখেনি পরিবার ও সহপাঠীরা। সিআইডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে সাজিদের পরিবার।

জানা গেছে, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ময়নাতদন্তের প্রায় ৩০ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ আগস্ট সাজিদের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ইবি থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে ইবি থানার পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন মামলাটি তদন্ত করেন। পরে পরিবারের দাবিতে কুষ্টিয়া সিআইডির পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ও গত মে মাসে পরিদর্শক মহব্বত হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা চিহ্নিত করা যায়নি।

হত্যাকাণ্ড ঘিরে শুরু থেকেই বেশ কিছু রহস্যজনক প্রশ্ন অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—সাজিদের কক্ষ সিলগালা থাকা সত্ত্বেও এক কর্মকর্তার প্রবেশ ও সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগ, মৃত্যুর পরও তাঁর মোবাইল ফোনে কল রিসিভ হওয়া, আট মাসেও ফোনের লক খুলতে না পারা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইনসানের মোবাইল ফোন ক্লোন হওয়ার ঘটনা।

এ ছাড়া ঘটনার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ফটক দিয়ে একটি ভ্যানে চারজনের প্রবেশের তথ্য পাওয়া যায়। সেদিন দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য পঙ্কজ জানান, গত বছরের ১৬ জুলাই ফজরের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম-সংবলিত পোশাক পরা দুজন অসুস্থ বন্ধুকে মেডিকেলে নেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তিকে ভ্যানে শুইয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা বেরিয়ে গেলেও ভ্যানে একই ব্যক্তি ছিলেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি।

তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাজিদের সহপাঠীরা। তাঁর বন্ধু মহিববুল্লাহ নোমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সিআইডির গাফিলতির কারণে মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। বিচার না হলে বিচারহীনতার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হবে, যা আমাদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলছে।’

সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ছেলের হত্যার বিচারের কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সিআইডি—কারও কাছ থেকেই নতুন কোনো তথ্য পাই না। সবার মধ্যেই গাফিলতি লক্ষ করছি।’

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মহব্বত হোসেন বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাসে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। কিছু অগ্রগতি হলেও তদন্তের স্বার্থে তা এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত