Ajker Patrika

সার না পেয়ে কুড়িগ্রামে ফের সড়ক অবরোধ, গুদামে অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা

কুড়িগ্রাম ও নাগেশ্বরী প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৩৯
সার না পেয়ে কুড়িগ্রামে ফের সড়ক অবরোধ, গুদামে অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা
গুদামে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ রেখে কৃষকদের বিক্ষোভ। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় সার বিতরণের দায়িত্বে থাকা এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ডিলারের গুদামে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ ওই কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাবতলা বাজারে অবস্থিত সারের ডিলার পয়েন্ট ‘ভাই ভাই মেশিনারিজে’ সকাল ৮টা থেকে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের কথা ছিল। তবে ডিলার ভোর থেকে সার বিতরণ শুরু করে সকাল ৮টার আগেই তা শেষ করে দেন।

সকাল ৮টার দিকে সার নিতে আসা কৃষকেরা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে গুদামে অবরুদ্ধ করে রাখেন। একই সঙ্গে মাদারগঞ্জ-ভূরুঙ্গামারী সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন।

বিক্ষুব্ধ কৃষকের রোষানল থেকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে বাঁচাতে গুদামে পুলিশি পাহারা বসানো হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এসে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে গুদাম থেকে উদ্ধার করে নিজ গাড়িতে তুলে নিয়ে নাগেশ্বরী ফিরে যান ইউএনও।

কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ডিলারের গুদাম থেকে ৮০ বস্তা সার বিতরণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় বিতরণ শুরু করি। বিতরণ সুষ্ঠু হয়েছে। কিন্তু বিতরণ শেষে কয়েক শ কৃষক এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন।’

এ বিষয়ে কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার বলেন, সারের দাবিতে কিছু কৃষক সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তা তুলে নেয়। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, মাসভিত্তিক সারের বরাদ্দ শেষে আজ দুই পয়েন্টে অতিরিক্ত আরও ১৬০ বস্তা সার বিতরণ করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় বেশি কৃষকের সমাগম হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ওয়ার্ডভিত্তিক খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিতরণ প্রশ্নে ইউএনও বলেন, উপজেলায় ৪৫ জন ডিলারের স্থানে ৩০ জন রয়েছে। নতুন করে ডিলার নিয়োগ হলে আরও বেশি পয়েন্টে সার বিতরণ করা হবে।

ইউএনও আরও বলেন, ‘এবার বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের অনেক নিচু জমিতে আবাদ হয়েছে। এ জন্য সারের চাহিদা বেশি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আরও সার বরাদ্দের জন্য বলেছি। আজ অতিরিক্ত বরাদ্দ থেকে বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সার দেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত