
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সোনালি ধানের সমারোহে চোখ জুড়ালেও কৃষকের মনে শান্তি নেই। ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, করিমগঞ্জ ও নিকলী উপজেলার হাওরে ধান কাটার উৎসব চললেও কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাজারে বর্তমানে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৭০০ টাকায়। অথচ ধান কাটার জন্য একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ প্রায় ১ হাজার টাকা। কৃষকদের ক্ষোভ—সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফলানো এক মণ ধান বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ উঠছে না। ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে বিপত্তি। অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে চার ব্যাটারির টমটম বা মালবাহী গাড়িগুলোতে ঠিকমতো চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। যেখানে ১২ ঘণ্টা চার্জ প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ২-৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ায় সারা দিন মালপত্র পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধান পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণে সময় এবং খরচ—দুটোই বাড়ছে।
জানা গেছে, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের জন্য ৩৬ টাকা কেজি দর (মণপ্রতি ১৪৪০ টাকা) নির্ধারণ করা হলেও কিশোরগঞ্জ জেলায় এখনো সংগ্রহ শুরু হয়নি। তালিকা তৈরি এবং অ্যাপে নিবন্ধন জটিলতায় সাধারণ কৃষকেরা এই সুবিধার বাইরে রয়েছেন। আগাম বন্যা ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তোলার চাপে রয়েছেন চাষিরা। এই সুযোগটি নিচ্ছে একশ্রেণির ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী। দাদনের ঋণে জর্জরিত অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে মাঠ থেকেই ৬৫০-৭০০ টাকা দরে ভেজা ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। অথচ বাজারে শুকনো ধানের দাম মণপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকার ওপরে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারিভাবে সরাসরি ধান কেনা শুরু না হওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে রেখেছেন।
করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরের কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে ধান ফলাই, আর সস্তায় কিনে লাভ করে মিলমালিকেরা। বাজারে চালের দাম চড়া থাকলেও ধানের দাম নেই। ২৫ কেজি চাল কিনতে এখন ১৫০০ টাকা লাগে, অথচ এক মণ ধান বিক্রি করছি অর্ধেক দামে।’
হাওরাঞ্চলের ধান বাণিজ্যের প্রধান দুই কেন্দ্র—ভৈরব বাজার ও করিমগঞ্জের চামড়া নৌবন্দরেও দেখা গেছে হাহাকার। ভৈরব বাজারে প্রতি মণ নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬৮০-৭০০ টাকায়, যেখানে মাত্র এক মাস আগেও পুরোনো ধান বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছর নতুন ধান এলে দাম কিছুটা কমে, তবে এবার অস্বাভাবিকভাবে অর্ধেকের বেশি দরপতন হয়েছে। কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ হাওরের ৩০টি উপজেলার কৃষকেরা ট্রলারযোগে ভৈরব আড়তে ধান নিয়ে এসে দাম দেখে স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছেন। কয়েকজন আড়তদার স্বীকার করেন, এক মাস আগে দাম দ্বিগুণ থাকলেও এখন মিলাররা ভেজা ধানের অজুহাতে দাম কমিয়ে দিয়েছেন।
একই চিত্র করিমগঞ্জের চামড়া নৌবন্দরে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার চাতালে ধান সরবরাহ করা হয়। বন্দরে প্রায় ৪০টি আড়তে কৃষকেরা ছোট-বড় নৌকায় করে ধান আনলেও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। আড়তদারেরা এখান থেকে কম দামে ধান কিনে ট্রাকে করে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার চালকলে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। মাঝখানে লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও মিলমালিকেরা, আর লোকসান গুনছেন প্রান্তিক চাষি।
মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কৃষক আরমান হোসেন বলেন, ‘গত বছর প্রতি একর (এক কানি) ধান কাটতে হারভেস্টর ভাড়া দিতাম ৬-৭ হাজার টাকা। এবার তেলের দাম বাড়ার দোহাই দিয়ে তা ১০-১২ হাজার টাকা নিচ্ছে। বর্তমানে ভেজা ধান মাত্র ৬৫০-৭০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। বৃষ্টির ভয় আর ধানের আর্দ্রতার কারণে ব্যবসায়ীরা ধান কিনতে চাইছেন না, ফলে কৃষকেরা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল ছেড়ে দিচ্ছেন।’
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে এবার ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান, ৪৯ টাকা দরে সেদ্ধ চাল এবং ৪৮ টাকা দরে আতপ চাল কেনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কিশোরগঞ্জ জেলায় এখনো ধান কেনা শুরু হয়নি। হয়নি ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণও।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওর এলাকাতেই চাষ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ টন। আর উৎপাদন হয়েছে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৮ টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘হাওরে বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। আমরা চাই, কৃষকেরা যেন তাঁদের কষ্টের ফসলের ন্যায্যমূল্য পান।’
জেলা প্রশাসক ও জেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৮ টন। আমরা সব তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। জাতীয় পর্যায় থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার ধান-চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়ার পর ধান-চাল ক্রয় শুরু হবে।’

জ্বালানি সংকট বড় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ফেলেছে শিল্পোদ্যোক্তাদের। বিদ্যুতের লোডশেডিং আর ডিজেলের সংকটে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে কমছে কারখানার উৎপাদন। বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন খরচ।
১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামের কোতোয়ালির পলোগ্রাউন্ড এলাকায় ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে এই মিছিলের পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ না থাকায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এক শিক্ষক ও পাঁচ শিক্ষার্থী। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে জাজিরা উপজেলার পাথালিয়া কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
২ ঘণ্টা আগে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বেসরকারি এনজিও সংস্থা কোডেকের ক্ষুদ্রঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে চুল ধরে টেনে কিলঘুষি ও পেটে লাথি মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে এনজিওকর্মীদের বিরুদ্ধে।
২ ঘণ্টা আগে