Ajker Patrika

পটুয়াখালীতে কিস্তি না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীতে কিস্তি না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাইরুন বেগম। ছবি: আজকের পত্রিকা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বেসরকারি এনজিও সংস্থা কোডেকের ক্ষুদ্রঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে চুল ধরে টেনে কিলঘুষি ও পেটে লাথি মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে এনজিওকর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গন্ডামারী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নারী খাইরুন বেগম গন্ডামারী গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী নজির মোল্লার স্ত্রী। মারধরে অসুস্থ হয়ে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন কোডেক এনজিও ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেন এবং আরও দুই নারী কর্মী।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ খাইরুন বেগম বলেন, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিনি। গত ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কুয়েতে যান তাঁর স্বামী নজির মোল্লা। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনো দেশের বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেননি তাঁর স্বামী। এই অবস্থায় তিন সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে কষ্টে পড়েছেন তিনি। এদিকে কিস্তির টাকার জন্য প্রতি সপ্তাহে তাঁর বাড়িতে এসে চাপ দিচ্ছেন কোডেকের কর্মীরা। অভাবের মধ্যেও দুটি কিস্তি পরিশোধ করেছেন তিনি।

খাইরুন বেগম আরও বলেন, কিস্তির টাকার জন্য আজ দুপুরে তাঁর বাড়িতে আসেন ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনিরসহ আরও তিনজন। এ সময় তাঁকে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেন এনজিওর দুই নারী কর্মী; কিন্তু ঘরে টাকা ছিল না। স্বামী বিদেশ থেকে টাকা পাঠালেই কিস্তির টাকা পরিশোধ করবেন বলে এনজিওকর্মীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কিস্তি না পেয়ে খেপে যান ম্যানেজার মনির হোসেন। তাঁকে অফিসে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রেখে আদায় করবেন বলে হুমকি দেন তিনি।

খাইরুনের অভিযোগ, এ সময় তিনি অসুস্থতার কথা জানালে নারী কর্মীরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি এনজিওকর্মীদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বললে ম্যানেজার মনির চুলের মুঠি ধরে তাঁকে ঘরের বাইরে টেনেহিঁচড়ে বের করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু তিনি শক্ত করে দরজা ধরে থাকলে সজোরে লাথি মারেন। এতে তিনি ছিটকে পড়ে যান। এরপর এনজিওর নারী কর্মীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি চড়থাপ্পড় মারেন। পরে তিনি বমি শুরু করলে এনজিওকর্মীরা দ্রুত বাড়ি থেকে চলে যান।

কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ববি মালকার বলেন, ওই গৃহবধূকে পেটে আঘাত করা হয়েছে। তাঁর আলট্রাসনোগ্রাম হয়েছে। তাঁর অনাগত সন্তান ভালো আছে। তবে তলপেটে আঘাতজনিত কারণে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কোডেক এনজিওর ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেন মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ওই গৃহবধূকে অফিসে আসতে বলেছি। তাঁকে কোনো মারধর করা হয়নি। বহুদিন ধরে তিনি কিস্তি বকেয়া রেখেছেন।’

কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের কেউ অবহিত করেনি। তবে এটি ঘটে থাকলে দুঃখজনক। আমাদের কাছে এলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

৭ দিনের গণভোট প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক: রিফাত রশিদ

দূরপাল্লার বাসযাত্রায় নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ, কোন রুটে কত বাড়ল

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসা স্থগিত

তেলপাম্পে মিছিল নিয়ে এসে ইউএনওর ওপর হামলা, অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত