Ajker Patrika

কিশোরগঞ্জে ১২ খণ্ডকালীন স্কুলশিক্ষককে ২১ মাসের বেতন ছাড়াই অব্যাহতি

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
কিশোরগঞ্জে ১২ খণ্ডকালীন স্কুলশিক্ষককে ২১ মাসের বেতন ছাড়াই অব্যাহতি
হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে ২১ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আজ বুধবার ইউএনও, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং বিভিন্ন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে সরকারি করা হলে দিবা শাখার ১৫ জন শিক্ষক সরকারি করণের আওতায় আসেননি। ভুলবশত দিবা শাখার পাঠদানের অনুমোদন পরিদর্শনে অসঙ্গতির কারণে এমনটি হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি ক্লাসে ৬০ জন করে দুটি শিফটে মোট ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান চালু রয়েছে। এতে দুই শিফটে মোট ১২০০ শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করে আসছে এবং ফলাফলও ভালো হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অবসরজনিত কারণ এবং বেতন না পাওয়ায় প্রভাতী শাখার শিক্ষকদের ৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। হঠাৎ তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি ও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, তাঁদের ২১ মাসের বেতন বাবদ প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা হারে জনপ্রতি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। ১২ জন শিক্ষকের মোট বকেয়া ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এই টাকা পরিশোধ না করেই তাঁদের বিদায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী ১২ জনের মধ্যে কলেজ শাখার ২ জন, প্রভাতী শাখার ৫ জন এবং দিবা শাখার ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষকরা বলেন, দীর্ঘদিন খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁরা নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজে অংশ নিয়েছেন। বেতন পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো পাওনা পরিশোধ করা হয়নি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় এসব শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দৈনন্দিন খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাঁরা চরম সংকটে পড়েছেন। অনেকে ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।

হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের আয় সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কলেজ একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খণ্ডকালীন শিক্ষকদের পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে।’

এ বিষয়ে মো. খায়রুল ইসলাম আরও জানান, খণ্ডকালীন শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ ও নিরীক্ষা শাখার পরিচালক মশিউর রহমানের পরামর্শ চাওয়া হলে তিনি উল্টো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে বলেন, ‘আপনি প্রতিষ্ঠানের ফান্ড থেকে এ টাকা দিলে আপনার ভবিষ্যৎ তহবিলের অর্থ থেকে কেটে রাখা হবে।’

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা তাঁদের ২১ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত