Ajker Patrika

স্কুল ফিডিংয়ে ছোট ডিম, জানতে চাওয়ায় সাংবাদিককে ঝাড়লেন শিক্ষা কর্মকর্তা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ০৯
স্কুল ফিডিংয়ে ছোট ডিম, জানতে চাওয়ায় সাংবাদিককে ঝাড়লেন শিক্ষা কর্মকর্তা
বাজিতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের ডুয়াইগাঁও সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ছোট আকারের ডিম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক ডিমটির ওজন ৬০ গ্রাম বলে জানালেও মাপযন্ত্রে ওজন করা হলে ৪৯ গ্রাম পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক ছোট ডিম দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই করে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত মান ও ওজনের খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আজ বুধবার, বেলা ২টার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষক মুখলেসুর রহমান বলেন, ‘স্কুল ফিডিং নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই, সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’

মুখলেসুর রহমান আরও জানান, বাজিতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসেছিলেন।

শিক্ষার্থীদের দেওয়া ডিমের ওজন কত গ্রাম জানতে চাইলে মুখলেসুর রহমান বলেন, ডিমটির ওজন ৬০ গ্রাম। পরে মাপযন্ত্রে ডিমটির ওজন করা হলে ৪৯ গ্রাম পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিয়ে বাজিতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ভিজিটে গেছি, শিক্ষকরা বলেন সবকিছু ঠিকঠাক। ডিমের সাইজ ছোট কি না, এর জবাব আমি কেমনে দিমু? ডিমের সাইজ ছোট, তাই ছোট দেয়।’

শিক্ষক ৬০ গ্রাম বললেও ডিমের ওজন ছিল ৪৯ গ্রাম। ছবি: আজকের পত্রিকা
শিক্ষক ৬০ গ্রাম বললেও ডিমের ওজন ছিল ৪৯ গ্রাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, ‘আপনারা মানুষের পিছে লেগে থাকেন কেন? আর কোনো কাজ নাই এ ছাড়া?’ এরপর তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বাজিতপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কবির হোসেন বলেন, ‘এ সমস্যাটি পিরিজপুরে দীর্ঘদিনের। যারা পিরিজপুর ইউনিয়নের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে আছেন, তারা বাজারের আড়ৎ থেকে কম দামে বেছে বেছে ছোট আকারের ডিমগুলো কিনে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

ডিমের ওজন ও মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়ার পর বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিম সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানেরও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত