Ajker Patrika

খুবি ছাত্রী হলে গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ ক্যানটিন কর্মীর, উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৯: ২৯
খুবি ছাত্রী হলে গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ ক্যানটিন কর্মীর, উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও গেটে তালা দিয়েছেন বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ‘২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হল ক্যানটিনের এক কর্মচারীকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন। সে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা দিয়ে দেন।

এদিকে গ্রেপ্তার ক্যানটিন কর্মী ইমাম হাসান ও তাঁর স্ত্রী রূপামনিকে আদালতে পাঠানো হলে ইমাম হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গতকাল বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের গণরুমসংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এক ছাত্রীর ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে ওই ছাত্রী আতঙ্কিত হয়ে সহপাঠীদের জানান। খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

বিষয়টি নিরাপত্তাকর্মীদের জানালে হলের ক্যানটিনে কর্মরত ইমাম হাসান ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়। পরে হল প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং পুলিশে খবর দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক বিন সালাম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে। মামলা করার বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছাত্রী হলের ক্যানটিনে পুরুষ কর্মী নিয়োগের বিধান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারেক বিন সালাম বলেন, অর্ডিন্যান্স দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে হবে। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ‘২৪ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. সেলিনা আহমেদ বলেন, হলের ক্যানটিন পরিচালনাকারী গোপনে ওয়াশরুমের ভেন্টিলেশন দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করার সময় শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটক ও মারধর করেন। এ ঘটনার পর ক্যানটিনের বরাদ্দ বাতিল ও হলের ভেতরে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ ছাড়া ইতিপূর্বে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুজন শিক্ষক এবং অভিযুক্ত ক্যানটিন কর্মীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। ফলে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।

বিজয় ২৪ হলের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তার কথা বলে নানা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। কিন্তু নিজের হলেই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে এসব বিধিনিষেধের অর্থ কী? আগেও ওই ব্যক্তির আচরণ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ইমাম হাসান পিটুনির শিকার হওয়ায় তাঁকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। পরে আজ বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। ইমাম হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত