Ajker Patrika

খুলনা: সংকটে বিশেষায়িত হাসপাতাল

  • ভাসকুলার সার্জারি, বার্ন ইউনিট ও নিউরো মেডিসিন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি।
  • ২৮টি ডায়ালাইসিস মেশিনের ১২টি অচল। সি-আর্ম মেশিন প্রায় এক বছর ধরে নষ্ট।
  • ২৫০ বেডের হাসপাতালে চালু ২১৬টি। বাকি ৩৪টি বেড অকেজো।
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭: ২৯
খুলনা: সংকটে বিশেষায়িত হাসপাতাল
ছবি: সংগৃহীত

জনবলসংকট, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে ভুগছে খুলনার বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। ডায়ালাইসিস ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জন্য রোগীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বেড না পাওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

খুলনা নগরীর গোয়ালখালী এলাকায় তিনটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই হাসপাতাল। এর নাম ছিল শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর হাসপাতালটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল। বর্তমানে এ হাসপাতালে ১১টি বিভাগ চালু রয়েছে। ৮৫ জন চিকিৎসক, ২০০ জন নার্স এবং ১০৩ জন সহায়ক কর্মচারী দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভাসকুলার সার্জারি, বার্ন ইউনিট ও নিউরো মেডিসিন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া সহায়ক কর্মচারীরও অভাব রয়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০-৬০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল এবং যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শত শত মানুষ।

নষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সি-আর্ম মেশিন

হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ একটি সি-আর্ম মেশিন প্রায় এক বছর ধরে নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। এই মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন অপারেশন পরিচালিত হতো। মেশিনটি অচল থাকায় সংশ্লিষ্ট অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জানতে চাইলে হাসপাতালের বায়োমেডিকেল টেকনোলজিস্ট পলক কুমার রায় জানান, সফটওয়্যার সমস্যার কারণে মেশিনটি অচল হয়ে পড়ে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে একটি প্রতিনিধিদল এসে পরিদর্শন করে। তবে পুরোনো মডেলের হওয়ায় এর সফটওয়্যার সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

হৃদ্‌রোগ বিভাগের ভর্তি রোগী আবুল কালাম বলেন, ‘অন্য হাসপাতালের তুলনায় এখানে অনেক ভালো চিকিৎসা পাচ্ছি। খরচ কম, চিকিৎসাও সঠিকভাবে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অক্সিজেন সময়মতো দেওয়া হচ্ছে।’

এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, চিকিৎসার মান ভালো, চিকিৎসকদের আচরণও ভালো। তবে ভর্তি রোগীদের খাবারের মান আরও উন্নত করা দরকার।

ডায়ালাইসিসে সংকট

হাসপাতালে ২৮টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ১৬টি। বাকি ১২টি মেশিন অচল থাকায় অর্ধেক রোগীকেই সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডায়ালাইসিসের জন্য রোগীদের দুই-তিন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, এই চাহিদা পূরণে অন্তত আরও ১৫-১৬টি মেশিন প্রয়োজন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, অচল মেশিনগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে মেরামতের পর আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন মেশিনের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন মেশিনে চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে সমস্যা থাকবে না।

আছে নিরাপত্তাঝুঁকি

হাসপাতালে প্রয়োজনীয় মালপত্র সংরক্ষণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্টোররুম নেই। ফলে বিভিন্ন কক্ষে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম রাখতে হচ্ছে, যা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে। এ ব্যাপারে পরিচালক জানান, একটি স্টোর বিল্ডিং নির্মাণ করা গেলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

এদিকে ২৫০ বেডের হাসপাতাল হলেও বর্তমানে চালু রয়েছে ২১৬টি। বাকি ৩৪টি বেড অকেজো রয়েছে। ফলে রোগীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দাবি, নবনির্বাচিত সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালের জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলার জয়যাত্রা, শারজা বন্দরে ফিরে যাচ্ছে

৪০ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের খরচ কত, ক্ষতিপূরণের আবেদনই পড়েছে ২৮২৩৭টি

যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া থেকে বেরোতে চায় মধ্যপ্রাচ্য, আলোচনায় নতুন নিরাপত্তা মডেল

ছেলেকে নিয়োগ দিতে সুন্দরগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারের জালিয়াতি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত