Ajker Patrika

খুলনার সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
খুলনার সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত সোলার পার্ক সচলের দাবিতে ৬ সুপারিশ
আজ খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ফেডের নেতারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

খুলনার সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত সোলার পার্কটি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য সংস্কার ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে পরিবেশবান্ধব এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা সম্ভব বলে দাবি করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)। একই সঙ্গে পার্কটি সচল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ছয় দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন ফেডের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক আনোয়ারুল কাদির। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ খাতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ২০০৮ সালে ৪ দশমিক ৩৩ একর জমির ওপর নির্মিত দেশের অন্যতম সোলার পার্কটি কারিগরি ত্রুটি ও তার চুরির কারণে ২০১২ সাল থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

সংগঠনের দাবি, মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করলে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার বিদ্যমান সোলার পার্কটি আবার সচল করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে ফেড যে ছয়টি সুপারিশ উপস্থাপন করেছে, সেগুলো হলো—

১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক পুনরায় চালু করা।

২. পার্কের ভবনের অব্যবহৃত ছাদ ও পুকুরের অংশবিশেষে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো।

৩. খুলনা সিটি করপোরেশন ভবনসহ নগরের বড় ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রণোদনা ও সচেতনতা বৃদ্ধি।

৪. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন।

৫. বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিধান কার্যকরে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।

৬. খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পার্কের অব্যবহৃত ছাদ এবং পুকুরের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা ব্যবহার করে মোট ৩৩৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এর মধ্যে ছাদে ৪৫ কিলোওয়াট এবং পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে।

ফেডের হিসাব অনুযায়ী, নতুন প্যানেল স্থাপন ও সংস্কার বাবদ প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ওপেক্স মডেলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি পরিচালিত হলে প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসবে এবং পরবর্তী ১৫ বছর প্রায় বিনা ব্যয়ে বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া যাবে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের উদাহরণ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত