
খুলনায় কেউ দগ্ধ হলে চিকিৎসার জন্য সাধারণত ছুটে যায় খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে। হাসপাতালটিতে এই ইউনিটের জন্য ৩৫টি শয্যার অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র ২০টি। স্থান সংকটের কারণে বাকি ১৫টি শয্যা চালু করা সম্ভব হয়নি। আবারও এই ইউনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র একজন।
চিকিৎসক এবং শয্যা—এই দুই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা নগরীর গোয়ালখালী এলাকায় ২০১০ সালে তিনটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১১টি বিভাগ চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন ধরেই বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট। হাসপাতালটিতে এই ইউনিটের জন্য ৩৫টি শয্যার অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র ২০টি। স্থান সংকটের কারণে বাকি ১৫টি শয্যা চালু করা সম্ভব হয়নি।
এই ইউনিটে শুধু আগুনে বা বিভিন্নভাবে পুড়ে যাওয়া রোগীদের চিকিৎসাই নয়, বার্নের পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের বিকৃতি বা ডিফর্মিটি, ডায়াবেটিক রোগীদের হাত-পায়ের ইনফেকশনসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করা হয়। ফলে ইউনিটটির ওপর রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক রোগীর নির্ভরতা।
চিকিৎসাসেবার এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নার্সিং স্টাফের স্বল্পতা না থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমানে মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। এই চিকিৎসক ছুটিতে থাকলে বা কোনো কারণে কর্মস্থলে না থাকলে তখন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতা এবং ব্যবহারে তারা সন্তুষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন রোগীরাও চিকিৎসাসেবায় ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। একজনের পরিবর্তে আরও বেশিসংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলে চিকিৎসাসেবা আরও ভালোভাবে পাওয়া সম্ভব।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চার মাস ধরে চিকিৎসাধীন এক নারী রোগী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসক ও নার্সদের কাছ থেকে ভালো সেবা পাচ্ছেন। তবে বর্তমান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পাশাপাশি আরও একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলে সেবার মান আরও ভালো হতো। তাঁর ভাষায়, একজন চিকিৎসকের পক্ষে একা সবকিছু সামলানো কঠিন।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নার্স ইনচার্জ মালতী দাস বলেন, খুলনার আশপাশের জেলা ছাড়াও দূরদূরান্তের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। বর্তমানে ইউনিটে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্মরত আছেন। তিনি ছুটিতে থাকলে বা কর্মস্থলে না থাকলে সেবার কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘ মেয়াদে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট পরিচালনা করা কঠিন। চিকিৎসক ছুটি, প্রশিক্ষণ বা অন্য কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকলে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছে। জানতে চাইলে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ৩৫টি বেডের অনুমোদন থাকলেও স্থান সংকটের কারণে বর্তমানে ২০টি বেড চালু রয়েছে। এই বিভাগে নার্সিং স্টাফের স্বল্পতা না থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই ইউনিটে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করছেন। বিভাগের কার্যক্রম আরও ভালোভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মেডিকেল অফিসারের সংখ্যাও বাড়ানো প্রয়োজন।

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে যুক্তরাজ্যের জার্সিতে থাকা প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহা
৭ মিনিট আগে
দীর্ঘ ১৫ বছর সৌদি আরবে কাজ করার পর দেশে ফেরার জন্য জেদ্দার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছিলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আব্দুল করিম ও তাঁর ছেলে। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন আব্দুল করিম। আর গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন তাঁর ছেলে। তাঁদের সঙ্গে থাকা খালিদ, আমিন মিয়া ও
২০ মিনিট আগে
নড়াইলের লোহাগড়ায় ‘চোর বলা’ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় নারীসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মোল্যা ও মুন্সী বংশের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
২৪ মিনিট আগে
বিয়ের পর যৌতুকের জন্য সাজু সরদার বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন হাসিনাকে। একপর্যায়ে তাঁকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হতো। যৌতুক হিসেবে হাসিনার বাবার কাছ থেকে নগদ লক্ষাধিক টাকা ও গরুও নেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে