Ajker Patrika

দফায় দফায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, তবু ভয়

  • সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার।
  • আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ভোটারদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জাহিদ হাসান, যশোর 
দফায় দফায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, তবু ভয়
প্রতীকী ছবি

রাত পোহালেই কাল বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। নির্বাচন ঘিরে সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের ছয়টি আসনে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে সীমান্ত ও জেলা-উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের পরও ভোটারদের আতঙ্ক কাটেনি।

যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। কঠোর নজরদারিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গুলি, বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ভয় নয়, ভোটের মাঠে স্বস্তি আসবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম কায়বা থেকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়। আগের দিন রোববার অভয়নগর উপজেলা চলিশিয়া ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে পেট্রলবোমা, চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

৭ ফেব্রুয়ারি রাতে যশোর শহরের বারান্দি মোল্লাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলিসহ একই পরিবারের চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রও পাওয়া যায়। ৩১ জানুয়ারি বাঘারপাড়া উপজেলার দড়িআগ্রা গ্রামের একটি বাড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে বিজিবির অভিযানে যশোরের চৌগাছা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের একটি মাঠে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় চারটি ভারতীয় এয়ারগান, বিদেশি গ্যাস পিস্তল, ৩০টি ট্রিগার স্প্রিং, ১৪টি ব্যাক সাইড ইউ এবং ২৯টি ফ্রন্ট সাইড টিপ উদ্ধার করা হয়।

মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, ‘কয়েক দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার স্বস্তির খবর। কারণ, সন্ত্রাসীদের হাতে অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ থাকা মানে আমরা সবাই অনিরাপদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও কঠোর হওয়া দরকার।’

জানতে চাইলে যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র-গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিবিড়ভাবে কাজ করছে।’

৪৯ বিজিবি যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত