Ajker Patrika

‘তোর ছেলেরে যদি বাঁচাতে চাস, এক লাখ টাকা মেরে দে’

­যশোর প্রতিনিধি
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ১৯: ৩০
‘তোর ছেলেরে যদি বাঁচাতে চাস, এক লাখ টাকা মেরে দে’
আবিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

যশোরে এবার আবিদ হোসেন (২৬) নামের গ্রামীণফোনের এক কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণকারীরা তাঁর পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে জানিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন আবিদের স্ত্রী।

এদিকে আবিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের জন্য আত্মগোপনের অভিযোগে একই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন গ্রামীণফোনের ডিস্ট্রিবিউটর এমকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আরমান এন্টারপ্রাইজ-২-এর সুপারভাইজার ওমর ফারুক।

আবিদ হোসেন যশোর সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি গ্রামীণফোনের যশোর সদরের ছাতিয়ানতলা কার্যালয়ের মার্কেটিং ও সেলস বিভাগের কর্মী।

আবিদের স্ত্রী মিনি খাতুনের জানান, গতকাল বুধবার (১১ মার্চ) সকালে আবিদ কর্মস্থলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে মোবাইল ফোন করে জানান, তিনি দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য দোকানে যাচ্ছেন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাত প্রায় ৮টার দিকে অফিস থেকে জানানো হয় যে আবিদ দুপুরে খাবারের বিরতিতে গিয়ে আর ফেরেননি।

মিনি খাতুন আরও জানান, বুধবার রাত ৯টার পর একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনে কল আসে। ফোন ধরতেই আবিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁকে বাঁচানোর আকুতি জানান। এর কিছুক্ষণ পর আবিদের বাবার ফোনে কল দিয়ে বলা হয়, এখনই ১ লাখ টাকা বিকাশে পাঠাতে হবে, তা না হলে আবিদকে মেরে ফেলা হবে। অপহরণকারীরা আবিদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও রিচার্জ কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও জানায় এবং টাকা না পেলে হত্যার হুমকি দেয়। এমনকি আবিদের বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেও বারংবার খুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে টাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এসএমএসে লেখা ছিল, ‘তোর ছেলের গাড়ি মাড়ি নিইনি আমরা। তোর ছেলেকে নিছি আর তোর ছেলের কাছে টাকাপয়সা নিছি। তোর ছেলের নম্বর ফোনটোন সব আমাদের কাছে। তোর ছেলেরে যদি বাঁচাতে চাস, এক লাখ টাকা মেরে দে।’

এই ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিনি খাতুন যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এদিকে এই ঘটনায় গ্রামীণফোনের ডিস্ট্রিবিউটর এমকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আরমান এন্টারপ্রাইজ-২-এর সুপারভাইজার ওমর ফারুক কোতোয়ালি মডেল থানায় আরও একটি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করেন, তাঁদের কর্মী আবিদ হোসেন গত ১১ মার্চ দুপুর ২টার দিকে প্রতিদিনের মতো মার্কেটের বিভিন্ন দোকান থেকে আদায় করা নগদ টাকা, বিক্রীত লোডের টাকা ও রিচার্জ কার্ড বিক্রির প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অফিসের পাওনা ৮০ হাজার টাকা মোট ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে আসছি বলে অফিস থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি আর অফিসে ফেরেননি এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, অফিসের টাকা আত্মসাতের জন্য তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

ওমর ফারুক আরও উল্লেখ করেছেন, আবিদের পরিবারের কাছে যে মোবাইল নম্বর থেকে মুক্তিপণের টাকা চাওয়া হয়েছে, সেটি আবিদেরই নম্বর।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় পরপর দুটি অভিযোগ পেয়েছি আমরা। পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অফিসের পক্ষ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে আরও একটি অভিযোগ পাওয়া গেছ। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।’

এর আগে ২ মার্চ যশোর শহরের শংকরপুর এলাকা থেকে ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম অপহৃত হন, যার মুক্তিপণ হিসেবে ১ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। র‍্যাব সদস্যরা ৯ দিন পর গতকাল বুধবার রাতে চৌগাছা উপজেলা থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভরপেট বিরিয়ানির পর তরমুজ, একে একে প্রাণ হারাল একই পরিবারের ৪ সদস্য

১৭৩ দিন হরতালের সুযোগ কাউকে দেব না: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার পেশাদার কূটনীতিক নন রাজনীতিক, কেন প্রথা ভাঙল ভারত

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন: বিজেপি কি পারবে ১০০ আসনের গণ্ডি পার করতে

পাকিস্তানের কাছে কেন হঠাৎ ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত চাইল আমিরাত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত