Ajker Patrika

বরাদ্দ ১৯০ গ্রাম মুরগির মাংস, গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে মিলল ৪০ গ্রাম

গাইবান্ধা, প্রতিনিধি
বরাদ্দ ১৯০ গ্রাম মুরগির মাংস, গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে মিলল ৪০ গ্রাম
রোগীদের দেওয়া মাংসের ওজন পরিমাপ করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল করিম রোগীদের জন্য পরিবেশন করা মাংসের ওজন পরীক্ষা করে গুরুতর অসংগতি দেখতে পান।

রোগীদের দেওয়া মাংসের ওজন পরিমাপ করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
রোগীদের দেওয়া মাংসের ওজন পরিমাপ করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

হাসপাতালের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী, একজন রোগীর জন্য দুপুরে বরাদ্দ ১৯০ গ্রাম (ব্রয়লার) মাংস। কিন্তু সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ওজন করে দেখা যায়, রোগীকে দেওয়া হয় ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম মাংস। এ ঘটনায় হাসপাতালের সেবার ও রোগীদের খাবারের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হাসপাতাল সড়কের স্থানীয় বাসিন্দা সুজন মিয়া বলেন, ‘এর ঠিকাদার শাহাদাৎ আওয়ামী লীগের আমলে একক আধিপত্য বিস্তার করে হাসপাতালের সব কেনাকাটা করতেন। ওই সময় তিনি দুটি কাজ করতেন। বিএনপি আসার পর তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারের কাজের দায়িত্বসহ ৯টি কাজ করছেন। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে এই ব্যক্তি এখন কোটি টাকার মালিক। আমরা গাইবান্ধাবাসী দীর্ঘদিনের এই জুলুম, অত্যাচারের হাত থেকে নিস্তার চাই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খাদ্য সরবরাহকারী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমি ঠিকাদার না। ঠিকাদার বাইরের।’ কোন জায়গার ঠিকাদার এবং নাম কী—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাইরের ঠিকাদার, আমি জড়িত আছি। বাদ দাও তো ভাই।’

গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম হাসপাতালের খাবারসহ ঠিকাদারের শাস্তির বিষয়ে বলেন, ‘রোগীদের জন্য সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই আত্মসাৎ না হয়। রোগীদের প্রাপ্য খাবার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

এমপি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল একটি পাবলিক প্রতিষ্ঠান। এখানে কারও এককভাবে কাজ পাওয়ার সুযোগ নেই। এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আমিও অনেক অভিযোগ শুনেছি। এসব বিষয় নিয়ে সংসদে কথা বলেছি। আর অনিয়ম যাতে না হয়, সে জন্য আমি নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শনে আসব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত