
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের এক পাশে সন্তান প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি)। অন্য পাশের একটি কক্ষে রাখা হয় প্রসূতিদের। কিন্তু প্রসূতি ও নবজাতকদের সংক্রমণ ঝুঁকিতে ফেলে স্পর্শকাতর এই ওয়ার্ডের মধ্যেই নিয়মিত রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া করছেন হাসপাতালের নার্সরা। তাঁরা অস্ত্রোপচার কক্ষের পাশে থাকা একটি কক্ষে গ্যাসের চুলা, হাঁড়ি-পাতিল ও রান্নার সামগ্রী এনে রান্নাবান্না করছেন। তৈরি করে খাচ্ছেন শীতের পিঠাও। রান্নার সময় দরজা খোলা রেখে নার্সরা অবাধে যাতায়াত করছেন অস্ত্রোপচার ও প্রসূতিদের কক্ষে।
দুই বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডে নার্সরা নিয়মবহির্ভূতভাবে এমন রান্নার আয়োজন চালালেও কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম। তবে অস্ত্রোপচার কক্ষের দরজা খোলা রেখে পাশে রান্নাবান্নার প্রমাণ দেখালে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার নুরজাহান, নার্স কল্পনা রানী, হ্যাপী রানী সূত্রধর, সীমা কর্মকার, রত্না বসাক, রানী বালা ও দেলোয়ারা বেগম নিয়মিত সেখানে রান্না ও খাওয়া-দাওয়া করে আসছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এক অন্তঃসত্ত্ব নারীর অস্ত্রোপচার চলছিল। সে সময় হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চার-পাঁচজন নার্স শীতের পিঠা তৈরি করছিলেন। পাশে আরেকটি কক্ষে চলছিল রোগীদের চিকিৎসাসেবা। এ সময় নার্সরা রান্নার ফাঁকে ফাঁকে যাতায়াত করছিলেন রোগীদের কক্ষে। এ নিয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই ওয়ার্ডে নার্সদের এমন অনিয়মের বিষয়টি সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরাও জানেন। কিন্তু তাঁরা রোগীদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কোনো ব্যবস্থা নেননি।
হাসপাতালে আসা রোগীর এক স্বজন রাকিব বলেন, ‘আমার বোনের প্রসব বেদনা উঠলে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে শুনছি নার্সরা নাকি অপারেশন থিয়েটারে বান্না করেন। এটা কেমন কথা! তা-ও দুই বছর ধরে এটা চলছে। ভাবাই যায় না।’
জানতে অভিযুক্ত নার্সদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁরা এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে ওয়ার্ডের ইনচার্জ স্বপ্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
জানতে চাইলে আরএমও রৌকন উদ দৌলা বলেন, ‘ওটির (অপারেশন থিয়েটার) ভেতর রান্নাবান্না? এটা অসম্ভব ব্যাপার। ওটির ভেতরে কীভাবে রান্নাবান্না করা হয়? সংক্রমণের অনেক বিষয় রয়েছে এখানে। আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
হাসপাতালে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো সার্জারি) মো. জামালউদ্দিন বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটু ঝামেলার মধ্যে আছি। এটা আমাদের দুর্বলতা, আমরা স্বীকার করছি। বিষয়টি আমরা অবশ্যই গুরুত্বসহ দেখব এবং অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। আমাদের পাঁচটা দিন সময় দিন। এমন স্পর্শকাতর জায়গায় রান্না করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ এ সময় তিনি ব্যবস্থা নেওয়া পর্যন্ত সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিগগিরই এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
ফেনীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ‘অপারেশন থিয়েটারে রান্নাবান্না করার কোনো সুযোগ নেই। এতে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে অবশ্যই খোঁজখবর নেব।’

আইন অনুযায়ী, ওয়াসা বোর্ডের সদস্যের বাইরে কেউ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। তবে এই আইনের তোয়াক্কা না করেই চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়া। ওয়াসার জমি বন্ধ রেখে ২২ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে।
৫ ঘণ্টা আগে
ঘড়ির কাঁটায় সকাল ৯টা। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে বাঁশি বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের সারবদ্ধভাবে ভেতরে প্রবেশ করান প্রধান শিক্ষক। পরে শুরু হলো প্রাত্যহিক সমাবেশ। শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শারীরিক কসরতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই পর্ব। এরপর শিক্ষার্থীরা আবার সারবদ্ধভাবে যার যার শ্রেণিকক্ষে চলে যায়।
৫ ঘণ্টা আগে
যশোর শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত গ্রাম মদনপুর। ঝিকরগাছা উপজেলার গ্রামটির বটতলা মোড় থেকে দক্ষিণ দিকের পিচঢালা পথ ধরে এগিয়ে গেলে দেখা মিলবে মাঠের পর মাঠ। এই মাঠের বুক চিরে যে পিচঢালা পথ, সেটি গিয়ে মিশেছে রাজগঞ্জ বাজারে। যে সড়কের দুই পাশে যত দূর চোখ যাবে, দেখা মিলবে সারি সারি ছোট-বড় তালগাছের।
৬ ঘণ্টা আগে
কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগবাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের বাধার মুখে নিয়োগ কমিটি একটি ইটভাটায় গিয়ে নিয়োগের কাজ শেষ করেন বলে জানা গেছে। গত শনিবার উপজেলার বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
৬ ঘণ্টা আগে