আনিসুল হক জুয়েল, দিনাজপুর

চলতি বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠদানে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই তিন শ্রেণিতে বছরজুড়ে পড়ানো হচ্ছে নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী। ক্লাসে এখন ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করে দলগতভাবে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ করছে। তবে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের নেই গতানুগতিক পড়াশোনা, মুখস্থ করা কিংবা বাড়ির কাজ।
বছরের শুরু থেকেই নতুন এই শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। ধারণা না থাকায় অধিকাংশ অভিভাবক এই কারিকুলাম সম্পর্কে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে নিয়মিত হলেও বাড়িতে তেমন কিছুই পড়ছে না। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যা শিখছে, বাড়িতে এসে যা করছে, সেগুলো পড়াশোনার পর্যায়ে পড়ে বলে মনে করছেন না অভিভাবকেরা। এ নিয়ে নতুন এই শিক্ষাক্রম বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
বিতর্ক থাকলেও নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠক্রমের একটি বছর ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছে। এখন চলছে বার্ষিক মূল্যায়ন ক্লাস। প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এই শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা কেমন করছে, তা জানতে আজকের পত্রিকার পক্ষ থেকে উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুসন্ধান চালানো হয়। বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, পাঁচ বা ছয় দিনের একটি প্রশিক্ষণ নিয়ে জেলা পর্যায়ে যাঁরা প্রশিক্ষক হয়েছেন, তাঁরাই আবার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। অসম্পূর্ণ ধারণা নিয়ে ক্লাসে গিয়ে শিক্ষকেরা নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠদান করাতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। শিক্ষকেরা জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু এটি আরও সময় নিয়ে বাস্তবায়ন করা দরকার ছিল। যেসব শিক্ষার্থী এই শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা করোনাকালীন প্রায় তিন বছর ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারেনি। যদিও সে সময় অনলাইনে পাঠদান চলেছে, কিন্তু মোবাইল, ইন্টারনেট না থাকা এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনেক ঘাটতি।
বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাঁরা আরও জানান, মাত্র পাঁচ দিনের ট্রেনিং সম্পূর্ণ নতুন একটি কারিকুলামের জন্য যথেষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত সব শিক্ষক ট্রেনিংয়ের আওতায় আসেননি। আবার শিক্ষকদের যে শিক্ষক নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, তা মানসম্মত নয়। তাড়াহুড়ো করে প্রণীত হওয়ায় সেটি শিক্ষকেরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারছেন না। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদেরও ব্যস্ত থাকতে হয়। ক্লাসের সময়ও বেশি। অনেক স্কুলে পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক নেই। অপর্যাপ্ত শিখনসামগ্রী আর সেই সঙ্গে মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় নতুন কারিকুলামের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন হবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জানান, নতুন কারিকুলাম বেশ ভালো। কিন্তু বাস্তবায়ন বেশ কঠিন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, উন্নত দেশগুলোর আদলে এই শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে যে মানের শিক্ষক ও শিক্ষার পরিবেশ প্রয়োজন, তা আমাদের নেই। নতুন কারিকুলামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ৩০ হওয়া দরকার। কিন্তু অনেক স্কুলে ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এর দ্বিগুণ, কোথাও তিন গুণ। এতে করে শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। এই কারিকুলামে কোনো পরীক্ষা নেই। বছরে দুবার মূল্যায়ন করা হয়। শুরুতে ট্রেনিং দেওয়া হলেও সেখানে মূল্যায়ন নিয়ে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। চলতি মাসের মাঝামাঝি এসে মূল্যায়ন সম্পর্কে জানানো হয়। এখানে Performence (দক্ষতা) ও Behaviour (আচরণগত) দুটি Indicator (সূচক) অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়।
দিনাজপুর কালেক্টরেট উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইয়ান হাসানের পিতা কামরুল হাসান বলেন, ‘গত তিন বছর করোনার কারণে আমাদের সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হঠাৎ করেই নতুন কারিকুলাম নিয়ে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়েছি। শিক্ষায় মূল বিষয়ের ওপর ফোকাস না করায় আমরা চিন্তিত ও শঙ্কিত।’
এ বিষয়ে দিনাজপুর কালেক্টরেট উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক রাহিনুর ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন কারিকুলামকে অনেকেই হয়তো স্বাগত জানাতে পারছেন না; কারণ, এটি তাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। আমরা এক মুখে বলছি, আমাদের আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম হলে ভালো হয়, অন্যদিকে তার বিরোধিতা করছি। এসব সমস্যার সমাধানে আরও গবেষণা দরকার।’

চলতি বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠদানে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই তিন শ্রেণিতে বছরজুড়ে পড়ানো হচ্ছে নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী। ক্লাসে এখন ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করে দলগতভাবে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ করছে। তবে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের নেই গতানুগতিক পড়াশোনা, মুখস্থ করা কিংবা বাড়ির কাজ।
বছরের শুরু থেকেই নতুন এই শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। ধারণা না থাকায় অধিকাংশ অভিভাবক এই কারিকুলাম সম্পর্কে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলে নিয়মিত হলেও বাড়িতে তেমন কিছুই পড়ছে না। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যা শিখছে, বাড়িতে এসে যা করছে, সেগুলো পড়াশোনার পর্যায়ে পড়ে বলে মনে করছেন না অভিভাবকেরা। এ নিয়ে নতুন এই শিক্ষাক্রম বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
বিতর্ক থাকলেও নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠক্রমের একটি বছর ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছে। এখন চলছে বার্ষিক মূল্যায়ন ক্লাস। প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এই শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা কেমন করছে, তা জানতে আজকের পত্রিকার পক্ষ থেকে উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুসন্ধান চালানো হয়। বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, পাঁচ বা ছয় দিনের একটি প্রশিক্ষণ নিয়ে জেলা পর্যায়ে যাঁরা প্রশিক্ষক হয়েছেন, তাঁরাই আবার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। অসম্পূর্ণ ধারণা নিয়ে ক্লাসে গিয়ে শিক্ষকেরা নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠদান করাতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। শিক্ষকেরা জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু এটি আরও সময় নিয়ে বাস্তবায়ন করা দরকার ছিল। যেসব শিক্ষার্থী এই শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা করোনাকালীন প্রায় তিন বছর ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারেনি। যদিও সে সময় অনলাইনে পাঠদান চলেছে, কিন্তু মোবাইল, ইন্টারনেট না থাকা এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনেক ঘাটতি।
বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাঁরা আরও জানান, মাত্র পাঁচ দিনের ট্রেনিং সম্পূর্ণ নতুন একটি কারিকুলামের জন্য যথেষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত সব শিক্ষক ট্রেনিংয়ের আওতায় আসেননি। আবার শিক্ষকদের যে শিক্ষক নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, তা মানসম্মত নয়। তাড়াহুড়ো করে প্রণীত হওয়ায় সেটি শিক্ষকেরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারছেন না। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদেরও ব্যস্ত থাকতে হয়। ক্লাসের সময়ও বেশি। অনেক স্কুলে পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক নেই। অপর্যাপ্ত শিখনসামগ্রী আর সেই সঙ্গে মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় নতুন কারিকুলামের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন হবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা জানান, নতুন কারিকুলাম বেশ ভালো। কিন্তু বাস্তবায়ন বেশ কঠিন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেন, উন্নত দেশগুলোর আদলে এই শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে যে মানের শিক্ষক ও শিক্ষার পরিবেশ প্রয়োজন, তা আমাদের নেই। নতুন কারিকুলামে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ৩০ হওয়া দরকার। কিন্তু অনেক স্কুলে ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এর দ্বিগুণ, কোথাও তিন গুণ। এতে করে শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। এই কারিকুলামে কোনো পরীক্ষা নেই। বছরে দুবার মূল্যায়ন করা হয়। শুরুতে ট্রেনিং দেওয়া হলেও সেখানে মূল্যায়ন নিয়ে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। চলতি মাসের মাঝামাঝি এসে মূল্যায়ন সম্পর্কে জানানো হয়। এখানে Performence (দক্ষতা) ও Behaviour (আচরণগত) দুটি Indicator (সূচক) অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়।
দিনাজপুর কালেক্টরেট উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইয়ান হাসানের পিতা কামরুল হাসান বলেন, ‘গত তিন বছর করোনার কারণে আমাদের সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হঠাৎ করেই নতুন কারিকুলাম নিয়ে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়েছি। শিক্ষায় মূল বিষয়ের ওপর ফোকাস না করায় আমরা চিন্তিত ও শঙ্কিত।’
এ বিষয়ে দিনাজপুর কালেক্টরেট উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক রাহিনুর ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন কারিকুলামকে অনেকেই হয়তো স্বাগত জানাতে পারছেন না; কারণ, এটি তাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। আমরা এক মুখে বলছি, আমাদের আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম হলে ভালো হয়, অন্যদিকে তার বিরোধিতা করছি। এসব সমস্যার সমাধানে আরও গবেষণা দরকার।’

রোববার সন্ধ্যায় মেহেদী গোবরা থেকে মোটরসাইকেলযোগে শহরের বাসায় ফেরার পথে চিত্রা নদীর এসএম সুলতান সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেয়।
১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও এলাকা) রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে ‘তিন সাইফুলের’ উপস্থিতি ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তাঁরা হলেন—দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল
৬ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় সর্বোচ্চ খরচের পরিকল্পনা করেছেন বিএনপির আলী আসগর লবী। আর জেলায় সবচেয়ে কম বাজেট একই দলের আরেক প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের। হলফনামায় ছয়টি আসনের প্রার্থীদের অধিকাংশই নিজস্ব আয়ের পাশাপাশি স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও অনুদান নিয়ে এই ব্যয় মেটানোর কথা জানিয়েছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
পাশাপাশি দুটি জনগোষ্ঠীর বসবাস। দূরত্ব বলতে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার হবে। মাঝখানে বয়ে চলা ছোট একটি ছড়া, যা পৃথক করেছে চা-শ্রমিক ও খাসিয়া জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলকে। কাছাকাছি এলাকায় বসবাস হলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডবলছড়া খাসিয়াপুঞ্জি ও ডবলছড়া বা সুনছড়া চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনমানে ব্যাপক ফারাক।
৭ ঘণ্টা আগে