Ajker Patrika

ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ, এক সপ্তাহে ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ, এক সপ্তাহে ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি
শয্যা সংকটে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত ৮ দিনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫১৪ জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ৮৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।

ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ১৭ জুন ১৫ জন, ১৮ জুন ১১ জন, ১৯ জুন ৯ জন, ২০ জুন ১৪ জন, ২১ জুন ৭ জন, ২২ জুন ৭ জন, ২৩ জুন ১০ জন এবং ২৪ জুন ১৫ জন ভর্তি হন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুন মাসের শুরু থেকেই প্রতিদিন ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছিল। গ্রামাঞ্চলেও পেট ব্যথা, পাতলা পায়খানাসহ ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অনেকেই হাসপাতালে না এসে গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আলাদিপুর গ্রামের পল্লি চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন,`প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এখন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এরমধ্যে শিশুদের সংখ্যা বেশি।'

মাদিলাহাট এলাকার পল্লি চিকিৎসক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন,`জুন মাসের শুরু থেকেই কমবেশি পেট ব্যথা, পাতলা পায়খানাসহ ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যেসব রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন তাদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর সেগুলোকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে।'

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাসপাতালের ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

বাসুদেবপুর গ্রামের এক শিশুর মা জানান, বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের সেবায় সন্তুষ্ট তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “আবহাওয়াজনিত ঠান্ডা-গরম ও বাইরের খাবারের কারণে পেট ব্যথা, পাতলা পায়খানাসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে শিশুরাই বেশি থাকছে। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীরা দু-একদিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালে শয্যা সংকট থাকলেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গড়ে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন, যা নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি। তবুও সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত