বিমানের এমডির বাসায় শিশু নির্যাতন

দুবেলা দুমুঠো ভাত আর নিরাপদ জীবনের আশাই বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী মিতুর (ছদ্মনাম)। তাকে দিনের বেশির ভাগ সময়ই টয়লেটের ভেতরে আটকে রেখে নির্যাতন চালাতেন বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. সাফিকুর রহমান (৫৫) এবং তাঁর স্ত্রী মোছা. বিথী (৪০)। শুধু তাঁরাই নন, তাঁদের বাসার অন্য দুই গৃহকর্মী রূপালী খাতুন (৩৫) ও সুফিয়া বেগমও (৫৫) শিশুটির ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালাতেন।
আজ মঙ্গলবার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশু গৃহকর্মী নিজের মুখে আজকের পত্রিকার কাছে নির্মম নির্যাতনের কথা তুলে ধরে। সে বলে, ‘আমার শরীরে বারবার গরম খুন্তি ও ছেনি পুড়িয়ে গরম করে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। আবার তারা হাত ও গলা কেটে নিজেরাই সেলাই করত।’
শিশুটি বলে, ‘ব্যথায় কান্না করলে আমাকে দিনের বেশির ভাগ সময় টয়লেটের ভেতরে আটকে রাখা হতো। কোনো চিকিৎসাই তারা করাত না। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না।’
এ সময় সে অভিযোগ করে বলে, পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। কেউ এলেও দেখা করতে দিত না।
এর আগে ওই শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পরপরই উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ৭/সি নম্বর সড়কের ২৬ নম্বর বাসা থেকে বিমানের এমডি ও সিইও সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথী এবং তাঁদের বাসার দুই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্মম নির্যাতনের শিকার শিশুটি সার্জারি বিভাগের বেডে কাতরাচ্ছে। তার হাত, পা, মুখমণ্ডলসহ সারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশু গৃহকর্মীর চিকিৎসার জন্য সাইকোথেরাপি প্রয়োজন। এ ছাড়া সে রক্তশূন্যতা ও মানসিক সমস্যায় ভুগছে।
জানা গেছে, শিশুটির চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি পঞ্চগড় জেলায়। পরিবারের সঙ্গে সে গাজীপুরের একটি ভাড়া বাসায় থাকত। তার দরিদ্র বাবা একটি হোটেলের কর্মচারী।
মামলার অভিযোগে শিশুটির বাবা উল্লেখ করেন, বিমানের এমডির বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড জনৈক জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। জাহাঙ্গীর জানান, তাঁর বাসার মালিকের বাচ্চা দেখাশোনা করার জন্য তাঁরা ছোট মেয়ে বাচ্চা খুঁজছেন। পরে জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে তিনি বাড়ির মালিক ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। তখন তাঁরা জানান, মেয়েটির বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করবেন। পরে তিনি গত জুন মাসের শেষে শিশুটিকে ওই বাড়িতে রেখে যান।
শিশুটির বাবা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গত ২ নভেম্বরও আমি আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখে কর্মস্থলে গিয়েছিলাম। পরে একাধিকবার আমার মেয়েকে দেখতে আসলে বিমানের এমডি ও তাঁর স্ত্রী নানান অজুহাতে দেখা করতে দিতেন না। সর্বশেষ গত ৩১ জানুয়ারি দুপুরে বিমানের এমডির স্ত্রী বিথী ফোন করে আমাকে জানান, মেয়ে অসুস্থ, তাকে নিয়ে যান। পরে আমি গেলে তাঁরা আমার মেয়েকে বাসার নিচে নিয়ে এসে আমাকে বুঝিয়ে দেন। ওই সময় আমি দেখতে পাই, আমার মেয়ের সারা শরীরে রক্তাক্ত জখম রয়েছে এবং ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। পরে আমি বাড়ির মালিক সাফিকুর রহমানের কাছে মেয়ের এমন অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করাই এবং তার মুখ থেকে ভয়ানক নির্যাতনের কথা জানতে পারি।’
শিশুটির বাবা আক্ষেপ করে বলেন, ‘মেয়েটির নিরাপদ জীবনের আশা করে ওই বাড়িতে দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই আশাতেই এখন বিভীষিকায় পরিণত হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, শিশুটিকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো।’
শিশুটির শরীর কেটে সেলাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত এমন কিছু শুনিনি। তবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে সব কিছু জানা যাবে।’

জামায়াত আমিরকে উদ্দেশ্য করে জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ‘যে মা-বোনেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করে, সংসার বাঁচান, নিজেদের মর্যাদা বাঁচান, বাচ্চাদের বড় করেন, আর আপনি তাঁদের পতিতা বললেন?
১৩ মিনিট আগে
নওগাঁয় জামায়াত ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
১৭ মিনিট আগে
দল থেকে বহিষ্কারের খবরে দিনাজপুরের বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
২৭ মিনিট আগে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি ‘রাজার ছেলে রাজা’-এই ধারার অবসান ঘটাতে হবে। একজন শ্রমিকের সন্তান যদি মেধাবী হয়, রাষ্ট্র তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নেবে। তাদের মধ্য থেকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী উঠে আসুক, এটাই স্বপ্ন।
২৭ মিনিট আগে