Ajker Patrika

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর: ড. ইউনূসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৫৬
ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর: ড. ইউনূসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি । ছবি: আজকের পত্রিকা

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।

সকালে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী মামলাটি দায়ের করেন। তখন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত পরে আদেশ দেবেন বলে জানান। দুপুরে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান না থাকায় আদালত মামলা খারিজ করেন বলে জানা যায়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরীফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৫ হাজার ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট কয়েকজন আসামির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ, উসকানি ও সহযোগিতায় বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি বেআইনিভাবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক ভবনে হামলা চালায়। এ সময় তারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সেখানে থাকা বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন, দলিল, বই-পুস্তক ও মূল্যবান সামগ্রীর ক্ষতি এবং লুটপাট করে।

আবেদনে আরও বলা হয়, পরে দুটি বুলডোজার, এক্সক্যাভেটর, হ্যামারসহ ভারী যন্ত্রপাতি এনে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। রাতভর চলা সেই কার্যক্রম পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত চলে এবং ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

মামলায় হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্টের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে মিছিল নিয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরক ব্যবহারের মাধ্যমে ভবনটি ধ্বংস করা হয়।

আবেদনে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও হাসনাত আবদুল্লাহ ছাড়াও আসামি করা হয় সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, নাহিদ ইসলাম, মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, সাংবাদিক শফিকুল আলম, লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আখতার হোসেন, সারজিস আলম, আবদুল হান্নান মাসুদ, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব ও সালেহ উদ্দিন সিফাতকে।

এ ছাড়া পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারওয়ার, কর্নেল (অব.) নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদকেও আসামি করা হয়।

বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত