
বঙ্গোপসাগরীয় সংলাপে (বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন) অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা বলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) সভাপতি জিল্লুর রহমান তাঁকে সম্মেলনে যেতে নিষেধ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী ও ট্রান্সফেমিনিস্ট হো চি মিন ইসলাম। তিনি বলেন, আমাকে সম্মেলনে না যাওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে, এমনকি নিজের সম্প্রদায়ের কাউকেও না জানাতে বলা হয়েছিল।
আজ শুক্রবার হো চি মিন ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এবং আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথোপকথনে এসব কথা জানান।
হো চি মিন বলেন, সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করার পর সিজিএস থেকে তাঁর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। পরে তাঁকে থাইল্যান্ডের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে একটি স্টুডিও আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ই-মেইল করা হয়। সে অনুযায়ী ১ অক্টোবর তিনি ভারতের হায়দরাবাদ থেকে ঢাকায় ফেরেন। তবে ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় জিল্লুর রহমান তাঁকে ফোন করে সম্মেলনে যোগ দিতে নিষেধ করেন।
অধিকারকর্মী হো চি মিন বলেন, জিল্লুর রহমান তাঁকে জানিয়েছিলেন, তাঁর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সম্মেলন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে না বলতে বলেন।
হো চি মিনের ভাষ্য, তিনি তখন জিল্লুর রহমানকে বলেন, জার্মানির একটি সংস্থা তাঁর যাতায়াতের খরচ বহন করছে। সংস্থাটিকে যেন জিল্লুর রহমান জানিয়ে দেন যে, তিনি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। এরপর সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এমনকি লিখিতভাবেও কিছু জানানো হয়নি।
হো চি মিন বলেন, সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয়। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি তুলে নানা ধরনের প্রচার চালায়। এ পরিস্থিতিতে তিনি উদ্বেগের কথা সিজিএসের এক প্রতিনিধিকে জানিয়েছিলেন। পরে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সম্মেলন উপলক্ষে সিজিএসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর ছবি ও প্রচারমূলক পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হয়।
৩ থেকে ৫ অক্টোবর ঢাকার একটি হোটেলে পঞ্চম বঙ্গোপসাগরীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সিজিএস আয়োজিত এই সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, সুশাসন ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
হো চি মিনের অভিযোগ, তাঁর নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা বলা হলেও তাঁকে সম্মেলনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় সিজিএসের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কথোপকথনের বিষয়ে হো চি মিনের দাবি, যেহেতু জিল্লুর রহমানের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি তাঁকে গোপন রাখতে বলা হয়েছিল, তাই তিনি শুরুতে কাউকে তা জানাননি। অথচ তাঁকে নিয়ে যাঁরা নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তাঁরা বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করতে থাকেন। এসব পোস্টের স্ক্রিনশট তিনি জিল্লুর রহমানকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালেও কোনো জবাব পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
অধিকারকর্মী হো চি মিন জানান, এ ঘটনার পর কেউ তাঁর খোঁজ নেননি। তিনি নিরাপদ আছেন কি না, কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না, সে বিষয়েও কেউ যোগাযোগ করেননি।
ঘটনাটিকে অপমানজনক উল্লেখ করে হো চি মিন বলেন, তিনি বিদেশে পিএইচডি গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম বিষয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের অপমান ও প্রান্তিকীকরণের অভিজ্ঞতা। অথচ এবার নিজেকেই এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
হো চি মিনের অভিযোগ, একজন প্রান্তিক মানুষ, যার হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা বা অস্ত্র নেই, শুধু নিজের কথা বলার অধিকারটুকু রয়েছে, তাঁকে ঘিরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায় ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর লোকজন কথা বলতে শুরু করেছেন। তাঁর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা তাঁকে অপমানিত করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের আগের সময়ের তুলনায় ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী এখন অনেক বেশি অনিরাপত্তায় ভুগছে বলে জানান হো চি মিন। তাঁর মতে, বাংলাদেশে ৫৫ বছরের ইতিহাসে সব সময়ই ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু চব্বিশের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে জানান তিনি।
হো চি মিন বলেন, গত ৫৫ বছরে কতজন সরকারপ্রধান তাঁদের অধিকার রক্ষায় কথা বলেছেন, তা ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে। তবে চব্বিশের পর দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ‘সাধারণ মানুষই যখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তখন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের পরিস্থিতি আরও কঠিন।’, বলেন তিনি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এই অধিকারকর্মী বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলন সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল প্রতারণামূলক এবং ধোঁকাবাজির আন্দোলন।’

ঠাকুরগাঁও শহরে একসময় ৬০০ থেকে ৭০০ জন স্বর্ণের কারিগর থাকলেও এখন সেই সংখ্যা ২০০ থেকে ২৫০ জনে নেমে এসেছে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কারিগর কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। সংসার চালাতে না পেরে বাধ্য হয়ে অনেকে অটোরিকশা চালাচ্ছেন, রাজমিস্ত্রির জোগালি দিচ্ছেন কিংবা পানের দোকান....
১৪ মিনিট আগে
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে যমুনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ৪০টি চায়না দুয়ারি জাল ও প্রায় ৩০০০ গ্রাম ইলিশ জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস। পরে জব্দ করা অবৈধ জাল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
১৯ মিনিট আগে
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে আজ শুক্রবার ভোর ৬টা এবং আজ সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে নৌ পুলিশ। অভিযানে ইলিশ ধরার সময় হাতেনাতে ১৭ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়....
৩০ মিনিট আগে
বিজ্ঞানের উৎকর্ষের এ যুগে বন্ধ্যাত্ব মেনে নেওয়ার বিষয় নয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক দম্পতির সন্তান লাভের আশা তৈরি হচ্ছে। বিজ্ঞানের সফলতায় এখন চিকিৎসার মাধ্যমে বন্ধ্যাত্বকে জয় করা সম্ভব।
৪১ মিনিট আগে