Ajker Patrika

আবার ৪ দিনের রিমান্ডে গাজী নজরুল ইসলাম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ১১
আবার ৪ দিনের রিমান্ডে গাজী নজরুল ইসলাম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে ফের চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুপুরের পর গাজী নজরুলকে চার দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন ফের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মৃত মরিয়ম খুবই আবেগী ছিলেন। অভিমানে আত্মহত্যা করেন এবং পারিবারিকভাবে বিভিন্ন ঝামেলার দরুন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তদন্তকালে জানা যায়। এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা এবং এর মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য আসামিকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে আসামিকে পুনরায় সাত দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। এর আগে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুলকে চার দিন ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

এর আগে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং মাসুম বিল্লাহর শ‍্যালক ওবায়দুর রহমান—এই তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভুক্তভোগী মরিয়ম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভুক্তভোগী মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ভুক্তভোগী মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে বিভিন্ন সময় মোবাইলে তাঁর পরিবারকে জানান। এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভুক্তভোগীর বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাঁদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় গিয়ে দেখতে পান, অনেক লোক সেখানে উপস্থিত।

তখন তিনি জানতে পারেন, বাসার ভেতরের একটি কক্ষে ভুক্তভোগী মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁর মেয়ের ঝুলে থাকা মরদেহ দেখতে পান। এ সময় বিছানার ওপরে তাঁর লেখা একটি সুইসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তাঁর মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

গতকাল বুধবার নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগের দিন গত মঙ্গলবার গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত