Ajker Patrika

দুই সিটিতে ৩০২ হকারকে পুনর্বাসন ও কার্ড প্রদান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
দুই সিটিতে ৩০২ হকারকে পুনর্বাসন ও কার্ড প্রদান
নগর ভবনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ছবি: আজকের পত্রিকা

চলতি মাসের শুরুতে রাজধানীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শুরু হয়েছিল হকার উচ্ছেদ অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় হকারদের নিবন্ধন, ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান এবং পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মোট ৩০২ জন হকারকে পুনর্বাসন ও ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিয়েছে। এর মধ্যে ডিএনসিসি মিরপুর এলাকার ২০২ জন ও ডিএসসিসি গুলিস্তান এলাকার ১০০ জন হকারকে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের জন্য ডিজিটাল আইডি কার্ড দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে ডিএনসিসির নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, মিরপুর-১০, মিরপুর-১ ও মিরপুর-২ এলাকার মূল সড়কের ৮২৯ জন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে সেই তালিকা থেকে ২০২ জন হকারকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ১০২ জনকে মিরপুর-১৩ ওয়াসা রোডে এবং অন্য ১০০ জনকে গাবতলী কাঁচাবাজার-সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। তালিকাভুক্ত অন্য হকারদের পর্যায়ক্রমে একই প্রক্রিয়ায় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, হকারেরা কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত নন; তাঁরা পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা দীর্ঘ মেয়াদে তাঁরাও চান না—এমন মতামত তাঁদের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা হকারদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি ডেটাবেইস তৈরি করেছি। সেই তালিকা ধরেই পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে।’

প্রশাসক জানান, স্থানান্তরের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের পর পুরোনো স্থানে হকার পাওয়া গেলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হকারদের জীবিকার বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

ডিজিটাল পরিচয়পত্রে কিউআর কোড সংযুক্ত থাকায় এর মাধ্যমে হকারদের পরিচয় ও নির্ধারিত স্থান সহজে যাচাই করা যাবে এবং জালিয়াতির সুযোগ কমবে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসক বলেন, শুরুতে কয়েকটি মাঠে হকার বসানোর প্রস্তাব এলেও সরেজমিনে দেখা যায়, সেগুলো খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই মাঠগুলো বাদ দিয়ে যানজটমুক্ত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে হকারদের জন্য পৃথক ‘হকার্স মার্কেট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে হকারদের নির্ধারিত স্থানের বাইরে ব্যবসা না করা এবং কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ না করার নির্দেশ দেন প্রশাসক।

ডিএমপি মিরপুর ডিভিশনের উপপুলিশ কমিশনার সারোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হকার ও পুলিশের সম্পর্ক অনেক সময় সংঘাতপূর্ণ ছিল। আজকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হলো।

একই দিনে গুলিস্তানের নগর ভবনে ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৬’-এর আওতায় পুনর্বাসন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি জানান, প্রথম ধাপে গুলিস্তান এলাকার ১০০ জন হকারকে রমনা ভবনসংলগ্ন লিংক রোডে পুনর্বাসনের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক জানান, নীতিমালার আওতায় নির্দিষ্ট স্থান ও সময় নির্ধারণ করে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হবে। চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে—গুলিস্তান রমনা ভবনের লিংক রোড, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীতে এজিবি কলোনি মাঠ (সন্ধ্যাকালীন বাজার), মতিঝিল ইসলাম চেম্বার এলাকা, রাজউক ভবনের পেছনে, গুলিস্তান টুইন টাওয়ার গলি, বাইতুল মোকাররম পূর্ব গেটসংলগ্ন লিংক রোড, নিউমার্কেট দক্ষিণ গেটসংলগ্ন এলাকা ও শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির ভেতরে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হকার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে হকারদের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।

আবদুস সালাম আরও বলেন, হকার, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে এই উদ্যোগ সফল করা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, কিউআর কোড-সংবলিত পরিচয়পত্রের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। ট্রাফিক পুলিশ সহজেই হকারদের বৈধতা ও বসার স্থান যাচাই করতে পারবে।

জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, ফুটপাতে হকার বসার পরও পথচারীদের চলাচলের জন্য ন্যূনতম পাঁচ থেকে ছয় ফুট জায়গা ফাঁকা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তবে পুনর্বাসন নিয়ে কিছু হকারের মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে। বিশেষ করে, মিরপুর এলাকার হকারেরা গাবতলীতে স্থানান্তরের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের ক্রেতারা মিরপুরের। গাবতলীতে গেলে ব্যবসা হবে না। আমরা মিরপুরের আশপাশেই জায়গা চাই।’

আরেক হকার বলেন, ‘আমাদের ১০০ জনকে গাবতলীতে যেতে বলা হচ্ছে; কিন্তু ভাগে ভাগে নয়, গেলে সবাই একসঙ্গে যাব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এক দশক পর নির্মাণে ফিরছেন ওয়াহিদ আনাম

ফের ইরানে হামলা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: ট্রাম্পকে পুতিনের হুঁশিয়ারি

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন: থালাপতি বিজয়ের দলের চমকের পূর্বাভাস

ইরান এমন অস্ত্র বের করবে, যা দেখে ‘শত্রু হার্ট অ্যাটাক’ করতে পারে

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন না শোধরায়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত