Ajker Patrika

পল্লবীতে বিএনপি কর্মী আলমগীরকে গুলি, ল্যাংড়া রুবেলসহ গ্রেপ্তার ৫

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ২৩
পল্লবীতে বিএনপি কর্মী আলমগীরকে গুলি, ল্যাংড়া রুবেলসহ গ্রেপ্তার ৫
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় বিএনপি কর্মী আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল, বাপ্পা ওরফে শাকিলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকা জেলার সাভার এবং গাজীপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে ডিবির মিরপুর বিভাগ।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। ব্রিফিং করবেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার মো. রুবেল ও তার সহযোগী বাপ্পাকে আসামি করে মামলা করেন গুলিবিদ্ধ আলমগীরের স্ত্রী রিনা আক্তার। সেখানে কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার দুই প্রধান আসামিসহ হামিদুর ওরফে মাখন, পারভেজ ও রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-পুলিশ।

ডিবি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার ও একটি গাড়ি এবং এক হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডিবি জানায়, ঘটনার পর অভিযুক্তরা কেউই ঢাকার মধ্যে অবস্থান করছিলেন না। বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তারা জানান, গত শুক্রবার আলমগীরকে গুলি করার পরপরই অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে ঢাকার বাইরে চলে যান। পরে তাঁরা বিভিন্ন রিসোর্টে অবস্থান করে সময় কাটাচ্ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

গুলিবিদ্ধ আলমগীর হোসেনের স্ত্রী রিনা আক্তার আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বামীর ওপর হামলার পর তাঁকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা তাঁকে খুব কাছ থেকে পেটে ও বুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি মাথা ছুঁয়ে বের হয়ে গেলেও দুটি গুলির একটি শরীরের ভেতরে মেরুদণ্ডের হাড়ে এবং অন্যটি কিডনিতে আটকে আছে। এ ছাড়া গুলির আঘাতে তাঁর খাদ্যনালি ও রক্তনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁকে এ পর্যন্ত একাধিক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। তাঁর অবস্থা এখনো চরম আশঙ্কাজনক। তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।

হামলার কারণ সম্পর্কে স্বজনদের ধারণা, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক হামলা। ইতিপূর্বে ‘পেপার সানি’ হত্যা মামলার সময় আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমে এলাকার মাদক ব্যবসাসহ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন। পুলিশের তালিকায় পলাতক থাকা ক্যাডার রুবেল গত চার দিন আগে ঢাকায় ফিরে আলমগীরকে অনুসরণ করে এই হামলা চালায়।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পল্লবীতে একটি প্রাইভেট কার থেকে নেমে বিএনপি কর্মী আলমগীর হোসেনকে (৪৫) লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ সময় আলমগীরের পাশাপাশি জ্যোৎস্না নামে এক পথচারীও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ আলমগীর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে জ্যোৎস্না কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত