Ajker Patrika

বিটিসিএলের তিন কর্মকর্তাসহ ৫ জনের নামে মামলা, তদন্তে সিআইডি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ২৯
বিটিসিএলের তিন কর্মকর্তাসহ ৫ জনের নামে মামলা, তদন্তে সিআইডি

সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড-২) জয়িতা সেন রিম্পীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলাটি করেন ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউএসইটি) উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ ‎‎বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান মামলার বাদী তাজুল ইসলাম।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার আদালতে এই মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার আদেশের বিষয়ে জানতে পেরেছি।’

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবীর কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২) মো. শাহ আলম সিরাজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ওয়েবসাইট www.uset.ac.bd Ges www.uset.edu.bd পরিচালনা করে। অ্যাডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড যেন কাউকে প্রদান না করা হয়, সে বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিটিসিএলকে এক পত্রের মাধ্যমে অনুরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ডোমেইন বিষয়ে আপত্তি এসেছে জানিয়ে বিটিসিএল ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর একটি পত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। অভিযোগ শুনানি বাবদ ২৩ হাজার টাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। ৩০ নভেম্বর ২৩ হাজার টাকা পে-অর্ডারসহ কাগজপত্র জমা দিতে গেলে তাঁরা তা গ্রহণ না করে ফেরত দেন। অজুহাত দেন, ডিমান্ড নোট অনুসারে ২৭ নভেম্বর টাকা জমা দেওয়ার মেয়াদ চলে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এরপর আসামিদের নিরপেক্ষতার ঘাটতি দেখে এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই আঁচ করে তাঁদের দুরভিসন্ধিমূলক কার্যকলাপের প্রতিকার চেয়ে ও ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে।

অন্যদিকে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে তাজুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর জয়িতা সেন রিম্পীর রুমে প্রবেশ করে এ বিষয়ে কথা বলতে যান। তবে রিম্পী প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন, কটুকথা বলেন এবং বিটিসিএলের বারান্দায় যেন কোনো দিন না দেখেন মর্মে হুমকি দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সনদ গ্রহণ করেননি এবং প্রচণ্ডভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে আবেদন গ্রহণ শাখার কর্মচারীকে আবেদন গ্রহণ না করার জন্য নিষেধ করেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, রিট-সংক্রান্ত আইনজীবী সনদ গ্রহণ না করে দাপ্তরিক কাজে অসহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আসামিদের গত ১৮ ডিসেম্বর উকিল নোটিশ পাঠান। এরপর আসামিরা ১১ জানুয়ারি বেলা ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডোমেইন বন্ধ করে দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে মর্মে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত