
দীর্ঘ ১৮৩ দিনের দুঃসহ যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম। গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সে গুরুতর দগ্ধ হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনায় দগ্ধ ৩৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আবিদই ছিল সর্বশেষ রোগী, যে আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের কাছে আবিদের সুস্থতা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। দুর্ঘটনায় আবিদের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তবে ক্ষত গভীর হওয়ায় তার রক্তে সংক্রমণ (সেফটিসেমিয়া) ছড়িয়ে পড়েছিল।
দীর্ঘ ছয় মাসে আবিদের শরীরে মোট ৩৫ বার ছোট-বড় অপারেশন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ বার চামড়া প্রতিস্থাপন ও ২৩ বার হাত থেকে অকার্যকর টিস্যু অপসারণ করা হয়।
মুখমণ্ডলে গভীর ক্ষত থাকায় তাকে ৪৮ বার অক্সিজেন থেরাপি দিতে হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে ২৩ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়।
ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক মারুফুল ইসলাম বলেন, আবিদ পাঁচ দিন আইসিইউ ও ছয় দিন এইচডিইউতে ছিল। দীর্ঘদিন সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত থাকায় তার ক্ষত শুকাতে দেরি হচ্ছিল। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সে আজ সুস্থ।
বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, এই বিশেষ রোগীদের জন্য সরকারের আহ্বানে আন্তর্জাতিক চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় আমরা এমন কিছু উন্নতমানের ওষুধ ও ড্রেসিং সরঞ্জাম ব্যবহার করেছি, যা এর আগে এই ইনস্টিটিউটে ব্যবহৃত হয়নি। আমাদের লক্ষ্য সাধারণ রোগীদের জন্যও ভবিষ্যতে এই মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা।’
হাসপাতাল থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আবিদের হাতে মাইক্রোফোন তুলে দেওয়া হলে সে শুধু বলে, ‘আমি যখন হাসপাতালে আসি, কোনো ভয় পাইনি।’ এটুকু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। পরে ধরা কণ্ঠে বলে, ‘আমি যুদ্ধকে জয় করেছি।’
আবিদের বাবা আবুল কালাম আজাদ চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে সরকারের ঘোষিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আহত ও নিহত বাচ্চাদের জন্য যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। আমি সরকারকে এটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করছি।’
প্রসঙ্গত, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে গত ২১ জুলাই বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ৩৬ জন নিহত হয় এবং আহত হয় ১২৪ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চার বন্ধু দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে মুরাদনগর উপজেলার তিতাস এলাকা থেকে হাঁসের মাংস খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কৃষ্ণপুরে তাঁদের মোটরসাইকেলগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে সংঘর্ষ লেগে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কাউসার মিয়া মারা যান।
২৫ মিনিট আগে
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত পাঁচজনের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে। আজ সকালে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নিজ গ্রামে আনা হয়েছে। মরদেহ আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
১ ঘণ্টা আগে
‘রাতে ইমন তার মামার মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধু ওমর ফারুকের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। রাত ২টার দিকে তেজগাঁও এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনার সংবাদ জানা যায়। এরপর ঢাকা মেডিকেলে এসে ইমনের মরদেহ দেখতে পাই।’
১ ঘণ্টা আগে
কৃষক জানবার প্রামাণিকের গোয়ালঘরে মশা তাড়াতে জ্বালানো কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোয়ালঘর ও বসতঘরে। এতে ঘরে থাকা চারটি গরু, চারটি ছাগল, একটি মোটরসাইকেলসহ ফসল ও আসবাব পুড়ে যায়।
২ ঘণ্টা আগে