Ajker Patrika

মেলার স্থাপনা গুঁড়িয়ে ট্রাক্টর দিয়ে মাঠে চাষ করলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৬: ৫৩
মেলার স্থাপনা গুঁড়িয়ে ট্রাক্টর দিয়ে মাঠে চাষ করলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা
শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে অবশিষ্ট স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার অবশিষ্ট স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খামারের দুটি ট্রাক্টর দিয়ে মাঠে চাষ করেন তাঁরা।

আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে দুটি ট্রাক্টরসহ পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে যান। সেখানে মেলার অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করেন তাঁরা।

sekibi-3

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো গবেষণা মাঠ হিসেবে পরিচিত এই জায়গায় সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে সেখানে গবেষণা কার্যক্রম ও সবুজায়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। মেলা বন্ধ না হওয়ায় একপর্যায়ে মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান তাঁরা। পরে মন্ত্রণালয় থেকে মেলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠ থেকে অবশিষ্ট স্থাপনা সরানো হয়নি। এর প্রতিবাদে আজ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়ে মাঠে চাষ করেন শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী রাফিউর রহমান রুহান বলেন, এই মাঠ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, পুরো এলাকার জন্য একটি ফুসফুস। ঐতিহাসিক এই গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে পুরো এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে সবুজায়ন করা হলে পুরো অঞ্চল রক্ষা পাবে।

মেলার একটি স্টলের কর্মচারী রিফাত রহমান বলেন, ‘মেলা বন্ধের ঘোষণা আসার পর আমরা মালামাল নিয়ে চলে যেতে চাইলেও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।’

sekibi

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেলা স্থগিতের সরকারি সিদ্ধান্তের পর আয়োজক কমিটি এক দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে স্থাপনা সরানো হয়নি। তাঁদের দাবি, স্থাপনা সরানোর পরিবর্তে আয়োজক কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকার ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে দেখা করে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত