Ajker Patrika

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দলের উদ্যোগ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দলের উদ্যোগ

দেশে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারে চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল-এমএসএফ)। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া ছাড়াও চলমান টিকাদান কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সংস্থাটি। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে সংস্থাটি।

২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশে হামের প্রকোপ দ্রুত বেড়েছে, যা ইতিমধ্যে প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ১২ লাখের বেশি শরণার্থী ঘনবসতিপূর্ণ ও সীমিত স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশে বসবাস করায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ক্যাম্পভিত্তিক স্বাস্থ্য খাতের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সেখানে ৩৩০ জনের বেশি সন্দেহভাজন ও প্রায় ৪০ জন পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আশপাশের স্থানীয় এলাকায় আরও প্রায় ১৬০ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এমএসএফের কান্ট্রি মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর মিকে স্টেনসেন্স বলেন, বছরের শুরু থেকেই রোগী শনাক্ত হচ্ছিল, তবে মার্চ মাস থেকে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ে এবং এপ্রিল মাসে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, যাদের মধ্যে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে, শুধু এপ্রিল মাসেই কক্সবাজারের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ২৮৪ জন হাম রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে; যা আগের তিন মাসের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। এর মধ্যে ৮২ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৯ এপ্রিল জামতলী ক্যাম্পে একটি পৃথক আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়, যা পুরো ক্যাম্প এলাকার জন্য রেফারেল সেন্টার হিসেবে কাজ করছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় এটি ইতিমধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছে গেছে।

গয়ালমারা মা ও শিশু হাসপাতাল এবং কুতুপালং হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, অনেক রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাম্পের ঘনবসতি, দুর্বল জীবনযাত্রা ও টিকাদানের নিম্ন হার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এমএসএফ জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তারা ৩৫০ জনের বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে, যাদের মধ্যে ১০৩ জনের অবস্থা ছিল জটিল। সংস্থাটি বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম এবং হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এক দশক পর নির্মাণে ফিরছেন ওয়াহিদ আনাম

ফের ইরানে হামলা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: ট্রাম্পকে পুতিনের হুঁশিয়ারি

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন: থালাপতি বিজয়ের দলের চমকের পূর্বাভাস

ইরান এমন অস্ত্র বের করবে, যা দেখে ‘শত্রু হার্ট অ্যাটাক’ করতে পারে

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন না শোধরায়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত