Ajker Patrika

সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারে ৫ কোটি টাকা খুইয়ে অপরাধে সানি, এরপর দুই চিকিৎসককে টার্গেট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারে ৫ কোটি টাকা খুইয়ে অপরাধে সানি, এরপর দুই চিকিৎসককে টার্গেট
চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ফাতিন ইশরাক লাবিব ও সানি সাহা। ছবি: পুলিশ

অর্থপাচারে জড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সানি সাহা। এরপরই ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন অপরাধে। সিঙ্গাপুরে চাকরির সুবাদে পরিচয় হওয়া জান্নাত আলমগীর হোসেনের হাত ধরে অপরাধজগতে আসেন সানি। তাঁকে দেওয়া হয় উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভয়ভীতি দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনায় এবার টার্গেট করা হয় দুই চিকিৎসককে।

আজ রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সানি সাহাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। একই অভিযানে ফাতিন ইশরাক লাবিব (২০) নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, সানি সাহা ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সিঙ্গাপুরে জেএনএস ইন্টেরিয়র ডিজাইনার প্রজেক্ট কোম্পানিতে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। সেখানে ২০২৩ সালে জান্নাত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে আলমগীর তাঁকে অর্থপাচারের মাধ্যমে আয়ের প্রস্তাব দেন।

সানির ভাষ্য অনুযায়ী, আলমগীরের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন সময় অর্থ পাচারের ব্যবসায় ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। এতে ক্ষতির মুখে পড়ে পরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন সানি। সানির গ্রামের বাড়ি গাজীপুর জেলায়। মুসলিম নারী বিয়ে করায় পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই।

২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফেরার পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জান্নাত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে আবার দেখা হয় সানির। তখন উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। বাসার ঠিকানা, গাড়ির নম্বর, পেশা, চলাফেরা, আর্থিক বিষয়সহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতেন তিনি।

ডিবির দাবি, এসব তথ্য ব্যবহার করে অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হক ও অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ পান সানি। পরে হামলায় অংশগ্রহণকারী সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেন ফাতিন ইশরাক লাবিবকে।

গত ২৭ জুলাই ধানমন্ডির ৪ নম্বর সড়কে পাঁচজন দুষ্কৃতকারী গাড়ি থামিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিনুল হককে হুমকি দেয়। এরপর গত ১৭ আগস্ট রাতে হামলার শিকার হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান। রাত পৌনে ১১টার দিকে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার সময় জীবন ওরফে আদিলসহ কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করে। পরে তাঁকে অটোরিকশা থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর ডান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

ঘটনাস্থলে থাকা আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পল্টন মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা জীবন ওরফে আদিলকে আটক করে। অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে আহত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় ডা. মো. আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়, ঘটনার কিছুদিন আগে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে ফোনকল করে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়।

হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে ডিবি। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়ার গোয়ালপাড়া কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সানি সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত আড়াইটায় খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ফাতিনকে।

জিজ্ঞাসাবাদে ফাতিন জানান, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগে ফুড ডেলিভারির মাধ্যমে সানির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাঁদের সাক্ষাৎ হয়। এরপর অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য আবু বকর (১৮), রাতুল (১৯), ইবান (২২), জীবন (২১) ও সাব্বিরকে (১৮) ১ লাখ টাকার বিনিময়ে কাজে যুক্ত করে ফাতিন।

ডিবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইবান ও জীবন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। গ্রেপ্তার সানি সাহা ও ফাতিন ইশরাক লাবিবের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত