Ajker Patrika

১৩ বছরের মায়ের কোলেই থাকছে ৭ মাসের শিশু, স্থায়ী সিদ্ধান্ত পারিবারিক আদালতে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
১৩ বছরের মায়ের কোলেই থাকছে ৭ মাসের শিশু, স্থায়ী সিদ্ধান্ত পারিবারিক আদালতে
প্রতীকী ছবি

ঢাকার হাজারীবাগের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী ও তার সাত মাস বয়সী শিশুকে ঘিরে আলোচিত ঘটনায় ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের শুনানিতে আপাতত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে পারিবারিক আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুনানি শেষে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. সায়েম খান জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাত মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশুটি আপাতত তার মায়ের কাছেই থাকবে। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, প্রচলিত আইন ও তার দুগ্ধপোষ্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী অভিভাবকত্বের বিষয়টি পারিবারিক আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।

কিশোরীর পরিবারের দাবি, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় কিশোরীর সঙ্গে টিকটকে পরিচয় হয় যুবক শাকিল মিয়ার। পরে তাকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে নোটারির মাধ্যমে কথিত বিয়ের কাগজ তৈরি করা হয়। সেটা কোনো বৈধ কাবিন হয়নি। পরে কিশোরী সন্তান জন্ম দেন। কয়েক মাস পর শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হয়। এরপর চলতি বছরের ২০ মে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন কিশোরী। লিগ্যাল এইডের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়।

আজ ওই আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি হয়। শুনানির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কিশোরী টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও করতে পারবে না। কিশোরী এ বিষয়ে অঙ্গীকারও করেছে।

এদিকে কিশোরীর স্বামী শাকিল মিয়া শিশুর অভিভাবকত্ব চেয়ে ঢাকা পারিবারিক আদালতে মামলা করেছেন। সে মামলায় আদালত যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন, ভবিষ্যতে শিশুর স্থায়ী অভিভাবকত্ব সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

কিশোরীর আইনজীবী মৃণাল কান্তি মিত্র বলেন, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা সফল হয়নি। তাই আপাতত তিনি শিশুকে মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া কিশোরীকে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তিনি টিকটক করবেন না এবং অনলাইনে অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না।

আইনজীবী আরও বলেন, কিশোরীকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া, কথিত বিয়ে, যৌন নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে কিশোরীর পরিবার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত