Ajker Patrika

২৬ টুকরা লাশ

আশরাফুল হত্যার ভিন্ন কারণ বলল র‍্যাব-পুলিশ

  • বন্ধু জরেজকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি ও র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার এক নারী
  • র‍্যাব বলছে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা থেকে হত্যা
  • ডিবি বলেছে, ত্রিভুজ প্রেমের কারণে আশরাফুলকে হত্যা করা হয়েছে
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আশরাফুল হক।
আশরাফুল হক।

রাজধানীতে আশরাফুল হককে (৪২) হত্যার পর লাশ ২৬ টুকরা করে হাইকোর্ট এলাকায় ফেলার কারণ হিসেবে দুই রকম তথ্য দিয়েছে র‍্যাব ও পুলিশ। র‍্যাবের দাবি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা থেকে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ডিবি পুলিশ বলছে, এই হত্যার নেপথ্যে রয়েছে ত্রিভুজ প্রেম।

কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে গতকাল শনিবার সকালে র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এবং পরে মিন্টো রোডে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য তুলে ধরেন। এই মামলার প্রধান আসামি ফরেজুল ইসলাম জরেজকে (৩৯) গত শুক্রবার রাতে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে এবং জরেজের বান্ধবী শামীমা আক্তারকে (৩৩) লাকসাম থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

হাইকোর্ট এলাকায় জাতীয় ঈদগাহের ফটকের কাছে ফুটপাতে নীল ড্রাম থেকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুরের বদরগঞ্জের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুলের ২৬ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিআইডি তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় শুক্রবার তাঁর ছোট বোন আনজিলা বাদী হয়ে আশরাফুলের বন্ধু জরেজকে প্রধান আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। আশরাফুলের মরদেহ গতকাল সকালে জানাজা শেষে বদরগঞ্জের গোপালপুর নয়াপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব দাবি করে, শামীমা ও জরেজের মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জরেজের পরিকল্পনা ছিল, শামীমাকে ব্যবহার করে আশরাফুলকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায় করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী জরেজ ১১ নভেম্বর আশরাফুলকে নিয়ে রংপুর থেকে ঢাকায় আসেন। ১২ নভেম্বর শনির আখড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। শামীমাও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। সেখানে সেদিন দুপুরে শামীমা আশরাফুলকে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। পরে আশরাফুল ও শামীমার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়, যা দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা ছিল। ভিডিওটি শামীমার মোবাইল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব আরও বলেছে, জরেজ পরে অচেতন আশরাফুলের হাত বেঁধে মুখে স্কচ টেপ লাগান এবং হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। উপর্যুপরি আঘাত ও শ্বাসরোধ হয়ে আশরাফুল মারা যান। পরদিন সকালে মরদেহ গুম করতে বাজার থেকে দুটি প্লাস্টিকের ড্রাম আনা হয়। পরে মরদেহ টুকরা করে ড্রামে ভরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হাইকোর্ট এলাকায় ফেলে রেখে যান তাঁরা। হত্যায় ব্যবহৃত দড়ি, স্কচ টেপ ও আশরাফুলের রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনাই ত্রিভুজ প্রেমের জটিলতার পরিণতি। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়াপ্রবাসী জরেজের সঙ্গে তিন বছরের বেশি আগে একটি অ্যাপের মাধ্যমে শামীমার পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেড় মাস আগে জরেজ দেশে ফেরার পরও সেই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে জরেজের স্ত্রী তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আশরাফুলের সাহায্য চান এবং শামীমার নম্বর দেন। পরে আশরাফুল নিজেই শামীমার সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁরা ভিডিও কলে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন।

ডিবি জানায়, শামীমা ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে জরেজকে জাপানে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরেজ ও আশরাফুল ১১ নভেম্বর রংপুর থেকে ঢাকায় আসেন এবং শনির আখড়ায় শামীমাকে সঙ্গে নিয়ে বাসা ভাড়া নেন। সেখানে জরেজ বুঝতে পারেন, শামীমা ও আশরাফুলের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শামীমা চিৎকার করলে জরেজ আশরাফুলের হাত বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর মুখের ভেতর ওড়না ঢুকিয়ে স্কচ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পরই আশরাফুল মারা যান। পরে মরদেহ টুকরা করে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে হাইকোর্ট এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার দুজনের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে হত্যার কারণ সম্পর্কে দুই সংস্থার পৃথক বক্তব্যে হত্যার প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অবশ্য পুলিশ ও র‍্যাব বলছে, গ্রেপ্তার দুজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষার পর হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য পরিষ্কার হবে।

আশরাফুলের দাফন সম্পন্ন

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, আশরাফুল হকের মরদেহ শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে বদরগঞ্জের গোপালপুর নয়াপাড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। গতকাল সকাল ৮টার দিকে জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

দাফনের পর আশরাফুলের বাবা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘কী দোষ ছিল মোর ছইলের? তাকে ঢাকাত নিয়া যায়া টুকরা টুকরা করিলো জরেজ ও তার প্রেমিকা। মুই বাঁচি থাকতে ওদের ফাঁসি দেখতে চাও। তাহলে মোরিও কিছুটা শান্তি পাইম।’

আশরাফুলের স্ত্রী লাকী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর কোনো শত্রু ছিল না। এলাকার মানুষ তাঁকে খুব ভালোবাসত। কেউ আর্থিক বিপদে পড়ে এলে কাউকে খালি হাতে ফেরত দিতেন না। এই ভালো মানুষটাকে কেন মারল জরেজ? ও যে তার বন্ধু ছিল?’

মা এছরা খাতুন বলেন, তাঁর একমাত্র ছেলে ছিলেন আশরাফুল। এখন কে তাঁদের খোঁজখবর নেবে? ওষুধপাতি এনে দেবে?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি গৃহকর্মী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ব্রাকসু নির্বাচন: মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে অফিসে তালা, কর্মকর্তারা লাপাত্তা

বেরোবি সংবাদদাতা
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২: ৫৮
ছবি: আজকের পত্রিকা
ছবি: আজকের পত্রিকা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তফসিল অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন থাকলেও সকাল থেকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় বন্ধ ছিল। এতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেল ব্রাকসু নির্বাচন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নপত্র জমা নিচ্ছেন না বা নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে কেন নেই, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে আপনারা নির্বাচন কমিশনারদের জিজ্ঞেস করলে সঠিক তথ্য পাবেন।’

এর আগে সকাল থেকে কমিশনের কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তাদের না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত অবহেলা, যা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে কমিশনের অনুপস্থিতি নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ। এতে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কমিশনে আসা প্রার্থী মো. শিবলী সাদিক বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত শেষ দিনে সকাল থেকে কার্যালয়ে আছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কেউ নেই। মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে কমিশনের অনুপস্থিতি একটি বড় প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এতে পুরো নির্বাচনী কাঠামো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

ভিপি প্রার্থী আহমাদুল হক আলবীর বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে দেখি অফিসই বন্ধ। আজ শেষ দিন জানার পরও সকাল থেকে আমরা এখানে বসে আছি। কিন্তু কমিশনের কেউ নেই। এতে আমাদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. শাহজামান, কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার সরকার ও সহযোগী অধ্যাপক মো. হাসান আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পাওয়ায় তাঁদের বক্তব্য জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, ১ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অসংগতি থাকার কারণ দেখিয়ে তফসিল স্থগিত করে ব্রাকসু নির্বাচন কমিশন। পরে ৩ ডিসেম্বর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়।

তফসিল অনুযায়ী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ ও দাখিল (ডোপ টেস্টের রিপোর্টসহ), ১০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, ১১ ডিসেম্বর প্রাথমিক তালিকা সম্পর্কে প্রার্থীদের আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি এবং ২৪ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি গৃহকর্মী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষিকা, উদ্ধার করল পুলিশ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি  
করুয়াকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
করুয়াকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝালকাঠির নলছিটিতে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষিকাকে স্কুলের কক্ষে অবরুদ্ধ করেছেন এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার মগড় ইউনিয়নের করুয়াকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলিনা রানী গোস্বামীর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নলছিটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার স্কুলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষিকা স্কুলে না আসায় পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। এতে এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ হন। আজ তিনি স্কুলে এলে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী তাঁর কক্ষে তালা দিয়ে তাঁকে আটকে রাখেন।

পরে প্রধান শিক্ষিকা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনাটি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে উদ্ধার করে।

প্রধান শিক্ষক মলিনা রানী গোস্বামীর মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু না বলেই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরীন আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে পারব না, কাল অফিসে আসেন।’

নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) আশরাফ আলী বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষিকাকে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি গৃহকর্মী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করে ইট তৈরি, চার ভাটাকে জরিমানা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
অবৈধ ইটভাটায় অভিযান। ছবি: আজকের পত্রিকা
অবৈধ ইটভাটায় অভিযান। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করে ইট তৈরির অপরাধে চারটি ইটভাটাকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) উপজেলার আশুজিয়া ও বলাইশিমুল ইউনিয়নে চারটি অবৈধ ইটভাটায় এ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন।

এ সময় কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করে ইট তৈরি করার অপরাধে প্রত্যেক ইটভাটাকে এক লাখ টাকা করে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন।

অভিযানে সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর নেত্রকোনার সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মতিন ও পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলাম।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দুয়া থানা-পুলিশের একটি টিম উপস্থিত থেকে সহায়তা করে। পাশাপাশি কেন্দুয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরাও অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত ও কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটার কারণে পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সব কারণে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

কেন্দুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কৃষিজমি সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি গৃহকর্মী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

দিনাজপুরে তিন অবৈধ ইটভাটায় অভিযান

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১: ৫৮
অবৈধ ইটভাটায় অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ ইটভাটায় অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবৈধ তিন ইটভাটায় অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে মেসার্স এ আর বি ব্রিকস এবং মেসার্স সততা ব্রিকসের ইটভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকসকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তর এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বদরুন্নাহার সীমা। উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদ হুসাইন রাজ ও পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের রিসার্স কর্মকর্তা রুনায়েত আমিন রেজা।

অভিযানে সহযোগিতা করেন সেনাসদস্য, র‍্যাব, পার্বতীপুর থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পরিবেশ সুরক্ষায় দিনাজপুর জেলায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বদরুন্নাহার সীমা বলেন, ‘দিনাজপুরে ৩১টি ইটভাটার বিরুদ্ধে জাল রিট ও ভুয়া আদেশ দেখিয়ে ভাটা পরিচালনার অভিযোগে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। গত সপ্তাহে সেই ৩১ ইটভাটাসহ অবৈধভাবে ভাটা পরিচালনাকারীদের কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করে দুটি ভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অপর একটি অবৈধ ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি গৃহকর্মী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত