Ajker Patrika

নৌকায় পারাপার: খোলামোড়া-কামরাঙ্গীরচর সেতু অঙ্গীকারেই আটকে

শামসুল ইসলাম সনেট, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
নৌকায় পারাপার: খোলামোড়া-কামরাঙ্গীরচর সেতু অঙ্গীকারেই আটকে
কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া ঘাটে নৌকায় পারাপার। সাম্প্রতিক ছবি। আজকের পত্রিকা

ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার মানুষের স্বপ্নের খোলামোড়া-কামরাঙ্গীরচর সেতু এখনো অঙ্গীকারেই আটকে আছে। ভোটের আগে প্রায় প্রতিটি দল বুড়িগঙ্গা নদীতে এ সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আর বাস্তব রূপ পায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এরশাদ সরকারের সময় পোস্তগোলা সেতু এবং বিএনপি সরকারের আমলে নয়াবাজার- বাবুবাজার, ওয়াশপুর-বসিলা ও হযরতপুর সেতু নির্মিত হলেও আজও নির্মিত হয়নি খোলামোড়া-কামরাঙ্গীরচর সেতু।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ উপজেলার খোলামোড়া ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির কামরাঙ্গীরচর ঘাটে যাত্রীদের ভিড় লেগে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে যেতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ পথ ব্যবহার করে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ এ ঘাট দিয়ে নদী পারাপার হয়। যাত্রী আনা-নেওয়ায় দুই শতাধিক ডিঙি নৌকা চলাচল করে। পাশাপাশি ভাড়ার বিনিময়ে মোটরসাইকেলও পারাপার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণ সময়ে ঘাটে ৫ টাকা এবং নৌকায় জনপ্রতি ৫ টাকা, রিজার্ভ নৌকা ভাড়া ৩০ টাকা হলেও ঝড়-বৃষ্টি কিংবা গভীর রাতে তা বেড়ে ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়। তাঁদের দাবি, এ ঘাট ইজারা দিয়ে সরকার বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকার পায়। কিন্তু ইজারাদারের আয় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা। অতিরিক্ত ভাড়া, ঘাটের টাকা ও মালামাল পরিবহনের ব্যয় বহন করতে গিয়ে প্রতিদিন বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

ভারী ব্যাগ হাতে ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন ঠোঙা ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেন। তিনি বলেন, ‘দুই টাকা বাঁচানোর জন্য কেরানীগঞ্জে এলাম। কিন্তু এখন নৌকা ভাড়া আর ঘাটের মাশুলেই সব যায়। ব্রিজ হলে পরিবার নিয়ে অন্তত শান্তিতে বাঁচতে পারতাম।’

মধ্যবয়সী সালেহা বেগম বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর এ পথে চলাচল করছি। রাতে কিংবা ঝড়-বৃষ্টিতে নৌকা ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে যায়। স্বামীর আয়ের অর্ধেক যায় নদীতে। ব্রিজ হলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার হবে।’

একই মন্তব্য করেন আরও অনেক যাত্রী। তবে নৌকার মাঝিদের ভাষ্য, এ ঘাটকে কেন্দ্র করে দুই থেকে তিন শ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। সেতু নির্মাণ হলে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।

ঘাটের ইজারাদারদের পক্ষে কালু মিয়া বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনেই ঘাট পরিচালনা করছি। আমাদেরও চাওয়া দ্রুত ব্রিজ হোক। এতে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’

সদ্য যোগদান করা কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘এ মুহূর্তে সেতুর বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করব।’

ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘গত ১৭ বছরে আগের সরকার খোলামোড়া-কামরাঙ্গীরচর সেতুর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ইনশা আল্লাহ, আমরাই এ সেতু নির্মাণ করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত