নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

দেশের বেকার যুবকদের সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গণনীতি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যানুযায়ী দেশে এখন পাঁচ কোটি যুবক রয়েছে। তাদের মধ্যে গড়ে তিনজনের মধ্যে একজন বেকার। বাংলাদেশে কর্মের নিশ্চয়তা দিয়ে একটি আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশে কর্মের নিশ্চয়তা দিয়ে একটি আইন প্রণয়ন করা দরকার। যেমন করে খাদ্যনিরাপত্তার আইন দরকার, বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োজন, তেমনি যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি আইনের দাবি ওঠানো উচিত। যুবসমাজের যারা কর্মহীন আছে, স্বনিবন্ধনের মাধ্যমে যদি হাজার টাকাও দেওয়া যায়, তাহলে শূন্য দশমিক ২ শতাংশর জিডিপির চেয়ে বেশি লাগে না। অর্থাৎ এটা আর্থিক সংস্থান বাংলাদেশে নেই বলে আমি মনে করি না। যদি লুটের টাকা ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে আর কিছুই লাগে না।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘দেশে যুবসমাজের ভেতরে নানা ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই হতাশ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। অনেকে আবার মাদকাসক্তসহ নানা ধরনের উগ্রবাদী চিন্তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এটা আমাদের জন্য বড় ধরনের অ্যালার্মিং বিষয়। এসব থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে যুবক ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়। আমাদের দেশেও সেটা সম্ভব। সেখানে সারা বছরের জন্য অথবা দুই বছরের শিক্ষার এক লাখ বা দুই লাখ টাকার ক্রেডিট কার্ড দেওয়া যায়, সেটা ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার নিশ্চয়তা করবে এবং সেই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শিক্ষার ব্যয়ভার পূরণ করবে, সেটার গ্যারান্টি সরকারের পক্ষ থেকে দিতে হবে। যখন সে চাকরি করবে বা আয় করবে, সেখান থেকে তা পূরণ করবে।’
ভোটাধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বাংলাদেশে একবারও ভোট দেয়নি এমন যুবকের সংখ্যা তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি। তারা ২০১৪ সালে দিতে পারেনি, ১৮ সালে দিতে পারেনি। তারা ভবিষ্যতে ভোট দিতে পারবে কি না, সেটা একটা বড় বিষয়। এই যুবকদের নিজেদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা এখন একটি জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দেখা উচিত।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি ও প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সমাজে চরম শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্য এতই বেড়েছে যে মালিক বিলিয়ন ডলারের ক্লাবের সদস্য, আর তার শ্রমিক দুবেলা ভাত খেতে পারে না। তাকে বাঁচার জন্য ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এখান থেকেই দেশের শ্রেণিবৈষম্য আরও স্পষ্ট বোঝা যায়।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নজর সাধারণ মানুষের ওপর নেই। তাদের চোখ এখন বড় বড় প্রকল্প আর কী করে বিলিয়ন ম্যান তৈরি করবে সেই দিকে। দেশে অর্থনীতিতে একটা একচেটিয়া রূপ নিচ্ছে। একচেটিয়ার পরিণতি হচ্ছে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র শিল্প সব ধ্বংস হচ্ছে। অল্পসংখ্যক লোকের হাতে সবকিছু চলে গেছে। সাফল্যের সঙ্গে বর্তমান সরকার এটি তৈরি করতে পেরেছে। এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের মৌলিক নীতি।’
এই শ্রমিকনেতা বলেন, ‘৭১ সালের আগে এই দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সে সময় আওয়ামী লীগ, ন্যাপ ও কমিউনিস্ট নেতারা জেলে ছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাইরে ছিল না। কিন্তু তার ভেতর দিয়েও সে সময় গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক পাকিস্তানি শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল। বর্তমানে যে রাজনৈতিক শূন্যতা চলছে, সেখান থেকেও মুক্ত হওয়া সম্ভব। দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যে ছোট ছোট শক্তি রয়েছে, তাদের যদি ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে একটি প্ল্যাটফর্মে আনা যায়, তবেই এই শূন্যতা দূর হবে।’
যুব ইউনিয়নের সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাবেরী গায়েন, যুব ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বি এম শহীদুল হক, প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল, জাহাঙ্গীর আলম নান্নু প্রমুখ।

দেশের বেকার যুবকদের সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গণনীতি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যানুযায়ী দেশে এখন পাঁচ কোটি যুবক রয়েছে। তাদের মধ্যে গড়ে তিনজনের মধ্যে একজন বেকার। বাংলাদেশে কর্মের নিশ্চয়তা দিয়ে একটি আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশে কর্মের নিশ্চয়তা দিয়ে একটি আইন প্রণয়ন করা দরকার। যেমন করে খাদ্যনিরাপত্তার আইন দরকার, বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োজন, তেমনি যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি আইনের দাবি ওঠানো উচিত। যুবসমাজের যারা কর্মহীন আছে, স্বনিবন্ধনের মাধ্যমে যদি হাজার টাকাও দেওয়া যায়, তাহলে শূন্য দশমিক ২ শতাংশর জিডিপির চেয়ে বেশি লাগে না। অর্থাৎ এটা আর্থিক সংস্থান বাংলাদেশে নেই বলে আমি মনে করি না। যদি লুটের টাকা ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে আর কিছুই লাগে না।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘দেশে যুবসমাজের ভেতরে নানা ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই হতাশ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। অনেকে আবার মাদকাসক্তসহ নানা ধরনের উগ্রবাদী চিন্তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এটা আমাদের জন্য বড় ধরনের অ্যালার্মিং বিষয়। এসব থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক দেশে যুবক ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হয়। আমাদের দেশেও সেটা সম্ভব। সেখানে সারা বছরের জন্য অথবা দুই বছরের শিক্ষার এক লাখ বা দুই লাখ টাকার ক্রেডিট কার্ড দেওয়া যায়, সেটা ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার নিশ্চয়তা করবে এবং সেই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শিক্ষার ব্যয়ভার পূরণ করবে, সেটার গ্যারান্টি সরকারের পক্ষ থেকে দিতে হবে। যখন সে চাকরি করবে বা আয় করবে, সেখান থেকে তা পূরণ করবে।’
ভোটাধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে বাংলাদেশে একবারও ভোট দেয়নি এমন যুবকের সংখ্যা তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি। তারা ২০১৪ সালে দিতে পারেনি, ১৮ সালে দিতে পারেনি। তারা ভবিষ্যতে ভোট দিতে পারবে কি না, সেটা একটা বড় বিষয়। এই যুবকদের নিজেদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা এখন একটি জাতীয় কর্তব্য হিসেবে দেখা উচিত।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি ও প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সমাজে চরম শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্য এতই বেড়েছে যে মালিক বিলিয়ন ডলারের ক্লাবের সদস্য, আর তার শ্রমিক দুবেলা ভাত খেতে পারে না। তাকে বাঁচার জন্য ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এখান থেকেই দেশের শ্রেণিবৈষম্য আরও স্পষ্ট বোঝা যায়।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নজর সাধারণ মানুষের ওপর নেই। তাদের চোখ এখন বড় বড় প্রকল্প আর কী করে বিলিয়ন ম্যান তৈরি করবে সেই দিকে। দেশে অর্থনীতিতে একটা একচেটিয়া রূপ নিচ্ছে। একচেটিয়ার পরিণতি হচ্ছে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র শিল্প সব ধ্বংস হচ্ছে। অল্পসংখ্যক লোকের হাতে সবকিছু চলে গেছে। সাফল্যের সঙ্গে বর্তমান সরকার এটি তৈরি করতে পেরেছে। এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের মৌলিক নীতি।’
এই শ্রমিকনেতা বলেন, ‘৭১ সালের আগে এই দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সে সময় আওয়ামী লীগ, ন্যাপ ও কমিউনিস্ট নেতারা জেলে ছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাইরে ছিল না। কিন্তু তার ভেতর দিয়েও সে সময় গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল। দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক পাকিস্তানি শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল। বর্তমানে যে রাজনৈতিক শূন্যতা চলছে, সেখান থেকেও মুক্ত হওয়া সম্ভব। দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যে ছোট ছোট শক্তি রয়েছে, তাদের যদি ঐক্যবদ্ধ করে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে একটি প্ল্যাটফর্মে আনা যায়, তবেই এই শূন্যতা দূর হবে।’
যুব ইউনিয়নের সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাবেরী গায়েন, যুব ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বি এম শহীদুল হক, প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল, জাহাঙ্গীর আলম নান্নু প্রমুখ।

৭০ বছর বয়সী জাবেরুন নেছা। রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সারা জীবনের অর্জিত অর্থ দিয়ে নিজের নামে এক কাঠা ও ছেলের নামে দুই কাঠা জমি কিনেছিলেন। ১৭ বছর আগে কেনা সেই জমি এখন হাতছাড়া হওয়ার পথে।
১ ঘণ্টা আগে
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ গেটসংলগ্ন রেললাইন এখন কার্যত রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে নেই। সরকারি বিধি, রেলওয়ে আইন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে রেললাইনের গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী অসংখ্য দোকান। এমনকি পরিত্যক্ত রেললাইনের ওপর দোকানঘর নির্মাণ করে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর বায়ুদূষণরোধে সরকার সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে উপজেলাটিতে সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো ও প্রস্তুতের কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
১ ঘণ্টা আগে
শিক্ষক ও লোকবলসংকটে ধুঁকছে বান্দরবান নার্সিং কলেজ। উন্নত শিক্ষার প্রসারে সদর হাসপাতালে প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধনের প্রায় সাত বছর পার হলেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে