সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন ফের নামঞ্জুর

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহিদা আক্তার এ আদেশ দেন।
ডনের পক্ষে তাঁর আইনজীবী সফিউল ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। আবেদনে তিনি বলেন, ডনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।
এর আগে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা কয়েক দফা তদন্ত করেছে। প্রতিবারই তদন্তে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে এখনো ডনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জামিন আবেদনে দাবি করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, ডন অসুস্থ এবং বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর স্থায়ী ঠিকানাও রয়েছে। জামিন পেলে তিনি পালিয়ে যাবেন না বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একাধিকবার ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
গত ৯ আগস্ট এ মামলায় ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই দিন সকাল ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে সিআইডির একটি দল বিমানবন্দরে গিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে এ মামলায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে গত বছরের ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে আসামি করা হয়েছে সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ, আশরাফুল হক ওরফে ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রিজভি আহমেদ ফারহাদকে।
এর আগে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রমনা থানার ওসিকে সালমান শাহর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’র মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর গত বছরের ২৭ অক্টোবর সামিরা হক ও আশরাফুল হক ডনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।










