Ajker Patrika

হকার ও অটোরিকশার লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: ডিএসসিসি প্রশাসক

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
হকার ও অটোরিকশার লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: ডিএসসিসি প্রশাসক
ডিসিসিআই কার্যালয়ে রোববার ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা, যানজট পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

হকার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। লাইসেন্সের পাশাপাশি নিবন্ধন নম্বর ও পরিচয়পত্রও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) কার্যালয়ে ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা, যানজট পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই ও ডিএসসিসি যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘নিবন্ধন ছাড়া কোনো রিকশা চলতে দেওয়া হবে না। একইভাবে হকারদেরও লাইসেন্স ও নম্বর দেওয়া হবে। তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করে কিউআর কোডের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’

আব্দুস সালাম বলেন, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো রিকশা চলবে না। আজকে ইচ্ছা হলো যে কোনো দিন পাঁচ টাইপের রিকশা নিয়ে নেমে যাবেন বা একটা ভ্যান নিয়ে হকারগিরি করবেন এটা হবে না। ইট মাস্ট স্টপ। ঢাকা শহরকে সবচেয়ে জঞ্জাল করেছে হকাররা। হকার ও অটো বন্ধ করতে গেলে তারা আন্দোলন করে। এই শহর সাধারণ মানুষের। শহরকে ভালো রাখতে সাধারণ মানুষকে আরও সোচ্চার হতে হবে।

বর্তমানে শুধু রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতেই নয়, বিভিন্ন মহল্লাতেও হকারের সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন প্রশাসক।

রিকশা ও হকারের সংখ্যা নির্ধারণ করে পুলিশের সহায়তায় তাদের লাইসেন্স দেওয়া হবে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, হকার কতগুলো হবে, রিকশা কতগুলো হবে সে অনুযায়ী তাদের আমরা লাইসেন্স দেব।

প্রশাসক বলেন, লাইসেন্স দেব, নম্বর দেব এবং তাদের একটা আইডির আওতায় আনব। তার টোটাল জীবনবৃত্তান্ত থাকবে সেখানে, যেন কিউআর কোডে চলে আসে যে এই লোকটা কোথা থেকে আসছে, তার পরিচয় কী; যেন কোথাও কোনো অনিয়ম করতে না পারে।

আব্দুস সালাম বলেন, অনেক জায়গায় মার্কেটের দোকানদাররা দোকানের সামনে আরেকটি দোকান বসিয়ে দেন। আবার ফুটপাতে দোকান বসিয়ে সেখান থেকে ভাড়া নেওয়া হয়। এগুলো চাঁদাবাজি। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চাই, সেটা যে দলেরই হোক।

রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের পাশাপাশি গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তায় রিকশা যেভাবে চলে, যানবাহন চলতে পারে না। আপনি গাড়ি নিয়ে চলতে পারবেন না, বাস চলতে পারবে না।’

রাজধানীর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ‘আজ অনেকে বিদ্যুতের জন্য দোষ দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারকে, গ্যাসের দোষ দেন। আরে ভাই, এই সরকার আসার পরেই কি এই সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছে? এটা উত্তরাধিকার সূত্রে এই সরকার পাইছে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত