Ajker Patrika

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণার দাবি সাদপন্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ৩০
বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণার দাবি সাদপন্থীদের
জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ। ছবি: আজকের পত্রিকা

তাবলিগ জামাতের সাদপন্থীদের জন্য বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা, টঙ্গীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং কাকরাইল মসজিদ ও ইজতেমা ময়দানের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাদপন্থীরা।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন মুফতি শফিউল্লাহ মাক্কী, মাওলানা আব্দুল আহাদ, ড. রেজাউল করিম ও মাওলানা নুরুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ছয়-সাত বছর ধরে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও উসকানি বাড়ছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইজতেমার আন্তর্জাতিক আবেদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্ব ইজতেমার মর্যাদা ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিরোধের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

বক্তব্যে বিশ্ব তাবলিগের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে বিতর্কিত বক্তব্য, অভিযোগ ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি মতপার্থক্য নিরসনে সংশ্লিষ্ট আলেমদের মধ্যে শালীন ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা এবং প্রয়োজনে সরকারের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংলাপ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের আমির সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের প্রয়াত স্ত্রীকে নিয়ে ২৪ অক্টোবর জুবায়েরপন্থী এক শীর্ষ নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়।

আয়োজকদের দাবি, ওই বক্তব্যে তাঁর শিক্ষাজীবন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বক্তব্যটি প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা না হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাবলিগ জামাতের কোন পক্ষ কী ধরনের সুবিধা পেয়েছে, তা নির্ভরযোগ্য নথি ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত।

টঙ্গীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে আয়োজকেরা বলেন, ঘটনার আগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। কারা উসকানি দিয়েছে, পরিকল্পনা করেছে এবং সরাসরি জড়িত ছিল, তা উদ্‌ঘাটনে তাঁরা পুনরায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, তাবলিগ জামাতের মূলধারার ছয় সাথিকে হত্যার পর তাঁদেরই আসামি করা হয়েছে এবং তাঁদের নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অভিযোগের নিষ্পত্তি আদালত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আয়োজকেরা বলেন, মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে আগমন, ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং আইনানুগভাবে ইজতেমা আয়োজনের ক্ষেত্রে সমান ও বৈষম্যহীন সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—মাওলানা সাদের অনুসারীদের জন্য বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা, অপপ্রচার ও উসকানি বন্ধ এবং একতরফা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার নিশ্চিত করা এবং কাকরাইল মসজিদ ও ইজতেমা ময়দানের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা।

এ সময় সরকার, বিরোধী দল, রাজনৈতিক দল, আলেম-উলামা, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের বিরোধ নিরসনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত