Ajker Patrika

‘শামসুর রাহমান নাগরিক কবি হলেও তাঁর মধ্যে ছিল শেকড়ের টান’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
‘শামসুর রাহমান নাগরিক কবি হলেও তাঁর মধ্যে ছিল শেকড়ের টান’
ছবি: সংগৃহীত

‎কবি শামসুর রাহমান নাগরিক কবি ছিলেন। কিন্তু তাঁর মধ্যে ছিল শেকড়ের টান। গ্রামের প্রকৃতি, মেঘনা নদীর ঢেউয়ের কলকলানি শব্দ এবং গ্রামের পাশ দিয়ে ট্রেনের শব্দকেও কবি ভালোবেসেছিলেন। নগরে জন্ম ও বসবাস করলেও শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় গ্রামকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন।

আজ ‎রোববার বিকেলে কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতুলী গ্রামের নিজ বাড়িতে ‘ঈদ পুনর্মিলনী ও কবি শামসুর রাহমান স্মরণে আলোচনা সভায়’ এসব কথা বলেন বক্তারা। ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব রায়পুরা (ডুসার) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।‎

‎সভায় নরসিংদী সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. মিরাজ ভূঁইয়া বলেন, নান্দনিক লেখক হিসেবে কবি শামসুর রাহমানের অসম্ভব গ্রহণযোগ্যতা আছে। যার গর্বিত অংশই তাঁর এলাকার মানুষ। পাড়াতুলী গ্রামে তাঁর স্মৃতি আছে। এই মাটিতে তাঁর পদচারণ হয়েছে। যদিও তিনি ঢাকায় নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু একটা পর্যায়ে তিনি শেকড়ে এসেছেন। পাড়াতুলীর বাড়িতে এসেই কবির বিয়োগান্তক কবিতা ‘একটি ফটোগ্রাফ’ লিখেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা এই কবিতাগুলো অজপাড়া গ্রামে বসেই লিখেছিলেন। শেকড়ের প্রতি যে কবির একটা আত্মিক টান ছিল সেটা তার কবিতাতেই প্রকাশ পেয়েছে। মানুষ যতই ওপরে উঠুক না কেন যদি শেকড়কে চিনতে ভুল করেন তা অর্থহীন।

‎তিনি বলেন, শামসুর রাহমান নাগরিক কবির পাশাপাশি প্রতিবাদী কবিও ছিলেন। তাঁর কবিতায় আইয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে ও উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ের প্রতিবাদও ছিল। দেশমাতৃকার কল্যাণে লেখনীর মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছেন। একজন মানুষকে জানতে হলে, তাঁকে ধারণ করতে হলে, তাঁর লেখনী পড়তে হবে।

‎তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শেকড়ের টানেই এসেছে। অনেকে অনেক বড় জায়গায় যাবে কিন্তু শেকড় যেটা তা ধরে রাখতে হবে।

‎জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ডুসার-এর ছাত্র উপদেষ্টা মুসলিম উদ্দিন বলেন, রায়পুরায় কবি শামসুর রাহমান, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ, ভাষাবিদ মো. মনিরুজ্জামানসহ বহু খ্যাতিমান মানুষের জন্ম হয়েছে। তারা দেশের জন্য অবদান রাখার মধ্য দিয়ে নিজ এলাকাকেও গর্বিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাদের ধারণ করে দেশের কল্যাণে কাজ করবে এটাই প্রত্যাশিত।

‎অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশনের ডাটা সমন্বয় কর্মকর্তা ও ডুসার-এর স্থায়ী উপদেষ্টা ফয়সাল আহমেদ বলেন, কবি শামসুর রাহমানের পিতৃভূমিতে এসে তাঁকে নিয়ে স্মরণ সভা করা গর্বের। রায়পুরার ইতিহাসকে যারা রঙিন করেছেন আমরা তাদের সেই মিছিলে শামিল হতে চাই। শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের কাজগুলো প্রতিফলিত হোক, যাতে শিক্ষার্থীরাও তাদের মতো হতে পারেন। ‎

‎ডুসার-এর স্থায়ী উপদেষ্টা রহমত উল্লাহ বলেন, শামসুর রাহমান নগরকে ভালোবেসেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর গ্রামকে ভুলে যাননি। তিনি গ্রামে এসেছেন, গ্রামকে ভালোবেসেছেন। এইজন্যই তিনি গ্রামের প্রকৃতি, মেঘনা নদী ঢেউয়ের কলকলানি শব্দ এবং নিজ উপজেলার ওপর দিয়ে চলে যাওয়া ট্রেনের শব্দকেও কবি ভালোবেসেছিলেন। তাইতো কবি শিশুদের জন্য ঝকঝকা ঝক ট্রেনে চলেছে শব্দে কবিতা লিখেছেন, ধান ভানলে কুড়ো দিবো শিশুতোষ ছড়া, কবিতা সাহিত্য রচনা করেছেন। ‎নগরে জন্ম ও বসবাস করলেও শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় গ্রামকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন—এটাই তাঁর কবিতার একটি বিশেষত্ব।‎

‎ডুসার-এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সৈকতের সঞ্চালনায় এবং সহসভাপতি রাশেদা আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপক (অ. দা.) শাহীন মিয়া, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটির সহকারী ব্যবস্থাপক ও ডুসার-এর স্থায়ী উপদেষ্টা মো. আল আমিন, হাবিবুর রহমান সাগর, ডুসার-এর প্রচার সম্পাদক জসিম মিয়া প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘রাফার আব্বু ওঠো, তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো?’

হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে সমুদ্রপৃষ্ঠে অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের, ইরানের চমক পানির নিচে

কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে ওঠা বাস আধা কিমি টেনে নিয়ে গেল ট্রেন, নিহত ১২

ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: যে কোম্পানির বাস চালান পিন্টু, সেটির বাসেই প্রাণ গেল স্ত্রী ও দুই মেয়ের

জীবননগরে শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত