নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

‘অনেক সংস্থার বড় বড় ভবন হয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের কোনো উন্নতি হয়নি।’ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির সময় এ কথা বলেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন। তবে শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আদালতকে ধন্যবাদ জানান ইনু।
আজ রোববার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ইনুকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের বিশেষ পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
ইনুর আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম শুনানিতে বলেন, আদালতের হাজতখানার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হাসানুল হক ইনু। সেখানে প্রায় ৫০ জন অন্যান্য আসামির সঙ্গে রাখা হয়। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব আসামির মধ্যে তাকে রাখা নিরাপত্তাহীনতার শামিল।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতের কাছে সব ভিআইপি আসামির জন্য আলাদা হাজতখানা করার দাবি জানান এই আইনজীবী।
তখন বিচারক বলেন, ‘আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পুলিশের। আমরাও চাই না এসব আসামিকে আদালতে নিয়ে আসা হোক। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। কেননা বিচারব্যবস্থা এখনো ডিজিটাল হয়নি। আমরা পুরোনো ব্যবস্থার মধ্যেই রয়ে গেছি। এ কারণে তাদের প্রায়ই আদালতে নিয়ে আসা হয়।’
এই বিচারক বলেন, ‘অনেক সংস্থার অনেক বড় বড় বিল্ডিং হয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের কোনো উন্নতি হয়নি। মহানগর দায়রা জজ আদালতের এই বিল্ডিংও নিজের না। এটি জেলা জজ আদালতের বিল্ডিং। এখানে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থাও নেই। এজলাসের মধ্যে আইনজীবীদেরই বসার জায়গা থাকে না, বিচারপ্রার্থীদেরটা তো আরও পরে। আওয়ামী সরকারের আমলে অনেক বড় মন্ত্রী-এমপিরা আইনজীবী ছিলেন। আইনমন্ত্রী নিজেও এই আদালতে প্র্যাকটিস করতেন। কিন্তু কোনো উন্নতি করেননি।’
বিচারক আরও বলেন, সেদিন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আদালতে আসছিলেন। আমি তাঁকেও বলেছি, আপনারা যদি বিচারব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন করতেন, তাহলে আজ তার সুফল ভোগ করতে পারতেন। কারাগার থেকে আর আদালতে আসা লাগত না। কারাগারে বসেই মামলার কার্যক্রম করতে পারতেন।
এরপর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ইনু বলেন, ‘আমার মামলার বিষয়বস্তু পত্র-পত্রিকায় আগেই দেখেছি। বিচারের আগেই মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচার করে ফেলছে দুদক।’ তখন বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘পরে আপনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আজ শুধু গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি।’
এরপর বিচারক তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এজলাস থেকে নামার সময় ইনু বিচারককে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এজলাসের ব্যবস্থা করায় আপনাকে ধন্যবাদ।’
মামলায় বলা হয়েছে, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখেন হাসানুল হক ইনু। তাঁর চারটি ব্যাংক হিসাবে মোট ১১ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ১৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করে মানি লন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অস্বাভাবিক লেনদেন করে মানি লন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ-দুর্নীতি ও ঘুষ সংঘটনের মাধ্যমে এবং সংসদ সদস্য হিসেবে একজন পাবলিক সার্ভেন্ট ও মন্ত্রী হিসেবে সরকারের দায়িত্বশীল পদে দায়িত্বে থেকে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশে তার হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেন।
ওই অভিযোগে গত ১৬ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী মুসা জেবিন মামলাটি করেন।
আরও খবর পড়ুন:

‘অনেক সংস্থার বড় বড় ভবন হয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের কোনো উন্নতি হয়নি।’ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির সময় এ কথা বলেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন। তবে শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আদালতকে ধন্যবাদ জানান ইনু।
আজ রোববার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ইনুকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের বিশেষ পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
ইনুর আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম শুনানিতে বলেন, আদালতের হাজতখানার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন হাসানুল হক ইনু। সেখানে প্রায় ৫০ জন অন্যান্য আসামির সঙ্গে রাখা হয়। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব আসামির মধ্যে তাকে রাখা নিরাপত্তাহীনতার শামিল।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতের কাছে সব ভিআইপি আসামির জন্য আলাদা হাজতখানা করার দাবি জানান এই আইনজীবী।
তখন বিচারক বলেন, ‘আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পুলিশের। আমরাও চাই না এসব আসামিকে আদালতে নিয়ে আসা হোক। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। কেননা বিচারব্যবস্থা এখনো ডিজিটাল হয়নি। আমরা পুরোনো ব্যবস্থার মধ্যেই রয়ে গেছি। এ কারণে তাদের প্রায়ই আদালতে নিয়ে আসা হয়।’
এই বিচারক বলেন, ‘অনেক সংস্থার অনেক বড় বড় বিল্ডিং হয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের কোনো উন্নতি হয়নি। মহানগর দায়রা জজ আদালতের এই বিল্ডিংও নিজের না। এটি জেলা জজ আদালতের বিল্ডিং। এখানে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থাও নেই। এজলাসের মধ্যে আইনজীবীদেরই বসার জায়গা থাকে না, বিচারপ্রার্থীদেরটা তো আরও পরে। আওয়ামী সরকারের আমলে অনেক বড় মন্ত্রী-এমপিরা আইনজীবী ছিলেন। আইনমন্ত্রী নিজেও এই আদালতে প্র্যাকটিস করতেন। কিন্তু কোনো উন্নতি করেননি।’
বিচারক আরও বলেন, সেদিন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আদালতে আসছিলেন। আমি তাঁকেও বলেছি, আপনারা যদি বিচারব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন করতেন, তাহলে আজ তার সুফল ভোগ করতে পারতেন। কারাগার থেকে আর আদালতে আসা লাগত না। কারাগারে বসেই মামলার কার্যক্রম করতে পারতেন।
এরপর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ইনু বলেন, ‘আমার মামলার বিষয়বস্তু পত্র-পত্রিকায় আগেই দেখেছি। বিচারের আগেই মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচার করে ফেলছে দুদক।’ তখন বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘পরে আপনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আজ শুধু গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি।’
এরপর বিচারক তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এজলাস থেকে নামার সময় ইনু বিচারককে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এজলাসের ব্যবস্থা করায় আপনাকে ধন্যবাদ।’
মামলায় বলা হয়েছে, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখেন হাসানুল হক ইনু। তাঁর চারটি ব্যাংক হিসাবে মোট ১১ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ১৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করে মানি লন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অস্বাভাবিক লেনদেন করে মানি লন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ-দুর্নীতি ও ঘুষ সংঘটনের মাধ্যমে এবং সংসদ সদস্য হিসেবে একজন পাবলিক সার্ভেন্ট ও মন্ত্রী হিসেবে সরকারের দায়িত্বশীল পদে দায়িত্বে থেকে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশে তার হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেন।
ওই অভিযোগে গত ১৬ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী মুসা জেবিন মামলাটি করেন।
আরও খবর পড়ুন:

রংপুরের তারাগঞ্জে গণপিটুনিতে রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ লাল (৩৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি হলেন তারাগঞ্জ উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ইউনুস আলী (৩২)। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বাজার...
১০ মিনিট আগে
চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৩৩০ জনের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের সাবেক মন্ত্রী, মেয়র, কাউন্সিলরসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা যেমন আছেন, একইভাবে আছেন বিএনপির নেতা, সনাতনী...
১৪ মিনিট আগে
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আটতলা নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুনে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও আতঙ্কে রোগী ও স্বজনদের হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লাগা আগুনে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে...
৪১ মিনিট আগে
বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে দ্রুততম সময়ে ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন সাইফুল ইসলাম রাসেল। ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় নিয়ে তিনি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতে পৌঁছে প্রতিযোগিতা শেষ করেন।
১ ঘণ্টা আগে