Ajker Patrika

শিক্ষার্থীদের বদলি হওয়া শিক্ষক বললেন, ‘তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না’

 কুমিল্লা প্রতিনিধি 
শিক্ষার্থীদের বদলি হওয়া শিক্ষক বললেন, ‘তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না’
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষকদের বদলি স্থগিতসহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনায় সাত শিক্ষককে ওএসডির পর সংযুক্ত কলেজে বদলি ঠেকাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বদলি হওয়া এক শিক্ষক আন্দোলন বন্ধ করতে গিয়ে কেঁদে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সমাধান ও শিক্ষকদের বদলি স্থগিতের ব্যানার এবং বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান দেন। তাঁরা ‘শিক্ষকদের বদলি নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই’, ‘৭ শিক্ষকের অপরাধ কী, জবাব চাই’, ‘শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করুন’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সাত শিক্ষকের বদলি ঠেকাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
সাত শিক্ষকের বদলি ঠেকাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। হঠাৎ একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কলেজের কোনো কোনো বিভাগে ২-৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। হঠাৎ সাত শিক্ষককে বদলি করা হলে কলেজের শিক্ষার মান তলানিতে নেমে যাবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু মহিলা কলেজ নয়, পুরো কুমিল্লা নগরীতেই জলবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। তা ছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতায় শিক্ষকদের কোনো হাত নেই। কলেজের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান না করে শিক্ষকদের বদলির সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। অবিলম্বে এই বদলির আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় শুধু মহিলা কলেজ নয়, আন্দোলন কুমিল্লাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

আন্দোলন বন্ধ করতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করতে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন। ছবি: আজকের পত্রিকা
আন্দোলন বন্ধ করতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করতে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন। ছবি: আজকের পত্রিকা

আন্দোলনের একপর্যায়ে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলির আদেশ পাওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করতে বলেন। এ সময় তাঁকে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিটা খাইও না, আমি তোমাদের কাছে মাফ চাই। বদলি আমার চাকরির অংশ। তোমাদের কাছে অনুরোধ।’

এ বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় আন্দোলন করছে। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি আন্দোলন বন্ধ করতে চেয়েছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত