Ajker Patrika

কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, মেলেনি মুক্তার ডিএনএ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ১৬
কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, মেলেনি মুক্তার ডিএনএ
পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্ট। ছবি: আজকের পত্রিকা

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তার ডিএনএর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কোনো মরদেহের নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। আগামীকাল মঙ্গলবার স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ সোমবার রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার উপপরিদর্শক রিমন ঘোষ। তিনি জানান, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬) রয়েছে।

অন্য পরিবারের নিহত ছয়জন হলো মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর (৬) ও ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তাঁরা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা।

সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, ২৭ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তার ডিএনএর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের কোনো নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। সাভারের আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক মুক্তা দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সালের দাবি, আগুন লাগার সময় তাঁর স্ত্রী রিসোর্টের কক্ষে আটকা পড়েছিলেন। মুক্তার দুই বান্ধবী বের হতে পারলেও তাঁর আর খোঁজ মেলেনি। এর আগে তদন্ত কমিটি জানিয়েছিল, মুক্তার অবস্থান শনাক্তে তাঁর মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

১৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাশে পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় ও আহত সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। নিখোঁজের তালিকায় ১১ জনের নাম থাকায় শুরু থেকেই হিসাবের গরমিল দেখা দেয়।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন এখনো জমা পড়েনি।

এ ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। আরেক মালিক নেওয়াজ মোর্শেদও আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত