সেন্ট মার্টিনে রাতযাপন নিয়ে যা জানাল পরিবেশ মন্ত্রণালয়

পর্যটকদের জন্য আবারও খুলছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটিতে পর্যটকদের যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। এ নিয়ে গতকাল রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এক চিঠি জারি করা হয়। তবে চিঠিতে রাতযাপনের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল না।
এ বিষয়ে আজ সোমবার যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুরো সময় পর্যটকদের জন্য খোলা থাকবে। কোন সময় থাকতে পারবে, কোন সময় থাকতে পারবে না, তা আমরা বলছি না। রাতযাপনের বিষয়টি আমরা আলাদাভাবে উল্লেখ করছি না। পুরো সময়টা খোলা থাকবে।’
গতকালের চিঠিতে বলা হয়, ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজে সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত করতে পারবেন পর্যটকেরা। প্রতিদিন দ্বীপে যাতায়াতকারী পর্যটকের সংখ্যা গড়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি হতে পারবে না। প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা দিতে হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ওই নিয়মে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দৈনিক দুই হাজার পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ ছিল। নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারিতে পর্যটকদের দিনে গিয়ে দিনে ফেরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ব্যবস্থাপনা বিধিমালার ২৬ বিধি অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্ট মার্টিনে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি না দিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পুলিশ সুপার ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাহাজমালিকেরা। জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রু মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর আজ দুপুরে আজকের পত্রিকাকে বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের চিঠির কারণে জাহাজ চলাচলের অনুমোদন পেতে দেরি হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে এ রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।
হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, চলতি মৌসুমে অন্তত ১০টি জাহাজ চলাচল করতে পারে। গত বছর এ রুটে সাতটি জাহাজ চলাচল করেছিল। এবার বেশি পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকায় জাহাজের সংখ্যা বাড়তে পারে।









