Ajker Patrika

চুয়াডাঙ্গা: শিশু ওয়ার্ডে সাত গুণ রোগী

• ধারণক্ষমতার সাড়ে ছয় গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি।

• এক সপ্তাহে বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৯২ শিশুকে।

• বেড়েছে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্তের হার।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা: শিশু ওয়ার্ডে সাত গুণ রোগী
শিশু ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ভবনের দোতলায় উঠতেই দেখা গেল, বারান্দায় বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসাসেবা চলছে। পাশে বসে আছেন তাদের স্বজনেরা। তাঁরা জানান, শিশু ওয়ার্ডের শয্যা দূরের কথা, মেঝেতেও জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাঁর সন্তানদের নিয়ে বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ২২টি, কিন্তু রোগী ভর্তি রয়েছে ১৪৫টি। এসব শিশুর মধ্যে ২০টি হামের উপসর্গে এবং অন্যরা জ্বর, সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এসেছে। ধারণক্ষমতার প্রায় সাত গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় একদিকে রোগী ও স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশুদের সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার বেড়েছে। এ ছাড়া হামের সংক্রমণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৭ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ওয়ার্ডে নতুন ভর্তি হয়েছে ২৪১ শিশু। এ ছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৭৯২ শিশু। শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন নতুন করে ৩৫ থেকে ৪০ শিশু ভর্তি হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসালট্যান্ট আসাদুর রহমান মালিক খোকন বলেন, ‘এখন আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। এতে দিন-রাতে তাপমাত্রার হেরফেরের কারণে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ সময়ে শিশুদের ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, হাম ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া বর্তমানে ২০টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে, যা উদ্বেগজনক।’

শিশু ওয়ার্ডে আড়াই বছর বয়সী শিশু সারার মা রুকাইয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘চার দিন ধরে মেয়েকে নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি আছি। আমার মেয়ের হাম হয়েছে। তবে এখন সে আপাতত সুস্থ আছে। আজ (সোমবার) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও হামের রোগী বেড়েছে। এর মধ্যে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, যাতে আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। বর্তমানে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ রয়েছে।’

ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘আমাদের লোকবল অনেক কম। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবও রয়েছে। হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ। তাই আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত