Ajker Patrika

ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ: ৩৫ বছর পরও আঁতকে ওঠে উপকূলের মানুষ

  • ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে কর্ণফুলীতে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ মারা যায়।
  • ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের ঝুঁকির মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
  • ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার।
মো. ইমরান হোসাইন, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) 
ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ: ৩৫ বছর পরও আঁতকে ওঠে উপকূলের মানুষ
ফাইল ছবি

প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিভীষিকাময় দিন আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীসহ উপকূলীয় জনপদ ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়, শুধু কর্ণফুলীতেই মৃত্যু হয় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের। ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সে ক্ষত এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। সেই দুঃসহ স্মৃতি আর আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায় উপকূলবাসীকে।

সেই ঝড়ে উদ্বাস্তু হয়েছিল কয়েক হাজার পরিবার। তার মধ্যে আড়াই হাজারের বেশি পরিবার এখনো উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর এলাকায় ভাঙা বেড়িবাঁধের পাশে বসবাস করছে। টেকসই বেড়িবাঁধের স্বপ্ন আজও অপূর্ণ রয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা এলেই নতুন করে শঙ্কায় দিন কাটে উপকূলীয় এলাকার মানুষের।

সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রলয়ংকরী সেই ঘূর্ণিঝড়ের ৩৫ বছর পরও কর্ণফুলীতে দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধের মুখ দেখেনি এই অঞ্চলের মানুষ। সেই সঙ্গে নেই পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের ঝুঁকির মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে। উপকূল রক্ষায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছিল মেসার্স মোহাম্মদ এরফানুল করিম নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ৫ আগস্টের পর থেকে বাঁধটি খুঁড়ে ফেলে রেখেছে তারা। এরপর থেকে আর শুরু হয়নি কাজ। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই বাঁধ কর্দমাক্ত হয়ে যায় এবং বাঁধ টপকে পানি ঢোকে লোকালয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রতিবছর ২৯ এপ্রিল এলে স্বজন হারানোর কথা স্মরণ করে এখনো শিউরে ওঠে তারা। ওই ঘূর্ণিঝড়ে কর্ণফুলীতে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ মারা যায়। তাদের মধ্যে জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর গ্রামে মারা যায় ৫ শতাধিক মানুষ। তাদের দাবি, বেড়িবাঁধ না থাকা ও পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারের অভাবে এই অঞ্চলে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি ঘটেছিল। এখনো টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও কর্ণফুলী নদীর পানির জোয়ারে এই এলাকা প্লাবিত হয় প্রতিবছর।

উপকূলীয় ডাঙ্গারচরের বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য সিরাজুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘বাঁধ ও সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছিল উপকূলের মানুষ। ১৯৯১ সালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় আমাদের এলাকায়। বিগত সময়ে নদীরপাড় ভেঙে গ্রামের অনেকের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। এখন নদী প্রায় আমাদের বাড়ির সামনে চলে আসছে। এখনো টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মিত হয়নি। কয়েক বছর ধরে খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে মাটি দিয়ে একটি বাঁধ নির্মাণ করলেও, তা স্থায়ী হয়নি। বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর ভাঙন ঠেকানো না গেলে হয়তো একদিন আমাদের বাড়িঘরও বিলীন হয়ে যাবে।’

জানা গেছে, ২০১৮ সালে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে জন্য ৫৭৭ কোটি টাকার বরাদ্দ এলেও এখনো কর্ণফুলীর জুলধা ও শিকলবাহা ইউনিয়নে বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। ৫ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ না হওয়ায় শঙ্কায় বসবাস করছে উপকূলের হাজারো পরিবার।

অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় বাঁধ নির্মাণকাজ ফেলে গেছে। এক-দেড় বছর ধরে কাজ বন্ধ। ফলে অরক্ষিত অবস্থায় রয়ে গেছে প্রায় ৫ কিলোমিটারের বেশি স্থান।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মোহাম্মদ এরফানুল করিমের মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কর্ণফুলী উপজেলা প্রকৌশলী তাসলিমা জাহান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কাজ বাতিলের জন্য জেলায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই বাতিল হয়ে যাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভরপেট বিরিয়ানির পর তরমুজ, একে একে প্রাণ হারাল একই পরিবারের ৪ সদস্য

মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসাহ ভাতা পেতে যাচ্ছেন ব্যাংকাররা

সরকারের হস্তক্ষেপে ভেঙে গেল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ড

নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সহযোগী টিটন

ইউনূস ভিভিআইপি এক বছরই, মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ভিভিআইপি ৬ মাস

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত